আজকাল ওয়েবডেস্ক: এআই গ্লোবাল সামিটের আসরে ঢুকে জামা খুলে প্রতিবাদ করেছিল যুব কংগ্রেস কর্মীরা। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই কাজের নেপথ্যে নেপালের জেন-জি বিক্ষোভের অনুপ্রেরণা ও বৃহৎ ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। যা নিয়ে প্রবল হইচই। দূরত্ব এড়াতে ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের নেতৃত্বরা যুব কংগ্রেসের এই অর্ধনগ্ন প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন। এবার সরব হলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। হাত শিবিরকে নিশানা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। যুব কংগ্রেসের প্রতিবাদ আসলে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিকে অবমাননা করা বলেই তোপ দেগেছেন তিনি। মিরাটে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন যে, এই বিক্ষোভে দুনিয়ার সামনে দেশের মর্যাদা লঙ্ঘন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে বিরোধী নেতারা রাজনৈতিক মতবিরোধের চেয়ে ব্যক্তিগত শত্রুতার দ্বারা অনুপ্রাণিত। তিনি বলেন, "কংগ্রেস নেতারা মোদিকে ঘৃণা করেন, তাঁরা আমার কবর খনন করতে চান। তাঁরা আমার মা'কে অপমান করতেও দ্বিধা করেননি" তাঁর কথায়, রাজনৈতিক বিরোধিতা প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বা জাতীয় স্বার্থের উপরে আসা উচিত নয়।
বিতর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এআই গ্লোবাল সামিট একটি জাতীয় উদ্যোগ এবং কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। মোদির কথায়, "কংগ্রেসের মনে রাখা উচিত ছিল যে, এআই গ্লোবাল সামিট বিজেপির কোনও অনুষ্ঠান ছিল না, সেই সময়ে কোনও বিজেপি নেতা উপস্থিত ছিলেন না। এটা ছিল জাতীয় কর্মসূচি- দেশের জন্য কাজ। আমি কংগ্রেসের লোকদের জিজ্ঞাসা করছি, দেশ জানে যে তোমরা ইতিমধ্যেই নগ্ন, তাহলে তোমাদের পোশাক খুলে ফেলার প্রয়োজন কেন মনে হল?"
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে, নোংরা রাজনীতির জন্য একটি বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারতের প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি ভঙ্গ করেছে এবং এই আচরণের ব্যাপক নিন্দা করা হচ্ছে।
কী ঘটেছিল?
এআই সামিট চলাকালীন গত শুক্রবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কিউআর কোড পাস ব্যবহার করে আচমকা ঢুকে পড়েন যুব কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা জামা খুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে আপস করেছেন। বিক্ষোভের সময় দিল্লির প্রগতি ময়দানে চলা এই সম্মেলনে একাধিক নামী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। গ্রেপ্তার করা হয় ১০ জনকে।
