আজকাল ওয়েবডেস্ক: সকাল হলেই চাকা লাগানো কাঠের পাটাতনে চেপে ভিক্ষা করতে বেরিয়ে পড়তেন। কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে হাত ও পায়ের আঙুল ক্ষয়ে যাওয়ায় অন্যান্য কাজ করতে সমর্থ নন। এ হেন এক ভিক্ষুকের সম্পত্তি দেখে অবাক মধ্যপ্রদেশের ইনদোরের সরকারি আধিকারিকরা। তাঁর কাছে রয়েছে তিনটি পাকা বাড়ি, তিনটি অটো, একটি চার চাকা গাড়ি এবং কয়েক লক্ষ টাকা। সেই টাকা তিনি আবারও সুদেও ধার দিয়ে থাকেন। সেখান থেকে আয় বহু।
ইনদোর দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর। সেই তকমা ধরে রাখতে শহরকে ভিক্ষুকশূন্য করার অভিযান শুরু করেছেন পুরসভা এবং প্রশাসন। শহরে ভিক্ষাবৃত্তি, ভিক্ষা দেওয়া, ভিক্ষুকদের থেকে কিছু কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না সেই অভিযানে নামে পুরসভা। তখনই হদিশ মেলে মঙ্গিলাল নামক ওই ভিক্ষুকের। স্থানীয় বাসিন্দাদের আধিকারিকরা জানতে পারেন, তিনি একজন কুষ্ঠরোগী এবং সরাফা এলাকায় নিয়মিত ভিক্ষা করেন।
মহিলা এবং শিশু কল্যাণ বিভাগের আধিকারিক এবং এই অভিযানের নোডাল অফিসার দীনেশ মিশ্র জানিয়েছেন, মঙ্গিলাল ২০২১-২২ সাল থেকে ভিক্ষা করছেন। বছরের পর বছর ধরে মঙ্গিলাল নীরবে সাহায্য চাওয়ার কৌশলটি আয়ত্ত করেছেন। তিনি কখনওই কিছু চাইতেন না। তিনি তার লোহার চারপেয়েতে বসে থাকতেন। বাকি কাজটা সহানুভূতিই করে দিত। লোকেরা স্বেচ্ছায় সাহায্য করতেন। শুধু ভিক্ষা থেকেই তাঁর দৈনিক আয় হত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আসল কার্যকলাপ শুরু হত অন্ধকার নামার পর।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় মঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন যে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে আয় করা টাকা জীবনধারণের জন্য খরচ না করে, তা সরাসরি সরাফাতেই বিনিয়োগ করা হত। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য নগদ টাকা ধার দিতেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিজে গিয়ে সুদ আদায় করতেন। আধিকারিকদের অনুমান, তিনি ৪-৫ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছেন এবং সুদ-সহ প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা আয় করেন।
দীনেশ জানিয়েছেন, মঙ্গিলালকে এখন উজ্জয়ীনির সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাঁর কাছ থেকে ঋণ নেওয়া ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্দোরের ভিক্ষাবৃত্তি-বিরোধী অভিযান শুরু হওয়া। একটি সরকারি সমীক্ষায় শহরটিতে প্রায় ৬,৫০০ জন ভিক্ষুককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত, কাউন্সেলিংয়ের পর ৪,৫০০ জন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়েছে, ১,৬০০ জনকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।
