আজকাল ওয়েবডেস্ক: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর দায়ের করা মানহানি মামলায় বড়সড় আইনি জটিলতায় পড়লেন কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা। গুয়াহাটি হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর, রবিবার রাতেই গ্রেপ্তারি এড়াতে দেশের শীর্ষ আদালতের কড়া নাড়লেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ এপ্রিল। নয়াদিল্লি ও গুয়াহাটিতে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে পবন খেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার একাধিক দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। খেরার দাবি ছিল, রিনিকি দেবীর কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার মতো দেশের পাসপোর্ট আছে এবং দুবাইতে তাঁর নামে বেনামি সম্পত্তি ও শেল কোম্পানির বিনিয়োগ রয়েছে। এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা এই অভিযোগকে মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করে গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে অভিযোগ দায়ের করেন। জালিয়াতি, মানহানি এবং ইচ্ছাকৃত অপমানের মতো একাধিক ধারায় খেরার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে অসম পুলিশ।
আইনি লড়াইয়ের শুরু থেকেই টানাপড়েন চলছে। গত ৭ এপ্রিল দিল্লি পুলিশ পবন খেরার বাসভবনে হানা দিলেও তাঁকে পায়নি। এরপর তিনি তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ড বা অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা পান। কিন্তু সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় অসম পুলিশ। গত ১৫ এপ্রিল শীর্ষ আদালত তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে পবন খেরাকে অসমের স্থানীয় আদালত বা গুয়াহাটি হাইকোর্টে আবেদন করার নির্দেশ দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মেনে পবন খেরা গুয়াহাটি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আর্জি জানালে, আদালত তা খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের মতে, মামলার গুরুত্ব ও অভিযোগের ধরন বিচার করে এই মুহূর্তে তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পবন খেরা সুপ্রিম কোর্টে 'স্পেশাল লিভ পিটিশন' দাখিল করেছেন। তাঁর আবেদন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে যেন গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গুয়াহাটির একটি স্থানীয় আদালত অবশ্য তদন্তকারী আধিকারিকের আবেদনের ভিত্তিতে খেরার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করতে অস্বীকার করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, পুলিশের দাবিগুলো কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট পবন খেরাকে কোনও রক্ষাকবচ দেয় কি না, কারণ এই মামলার ওপর গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।















