আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার নাগরিকত্ব এবং তাঁর নামে একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট থাকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। গত ৫ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী কি আদৌ এ দেশের নাগরিক? জনসমক্ষে আসা কিছু তথ্যের প্রসঙ্গ দিয়ে তিনি দাবি করেন, রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা সম্ভবত একাধিক দেশের পাসপোর্ট বহন করছেন, যা ভারতীয় আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
পবন খেরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করেন, "আমরা জানতে চাই মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী কি দুটি মুসলিম দেশের পাসপোর্টধারী? যদি তিনি ভারতীয় নাগরিক হন, তবে একাধিক পাসপোর্ট রাখা বেআইনি। আর যদি তিনি ভারতীয় নাগরিক না হন, তবে একজন দায়িত্বরত মুখ্যমন্ত্রীর জীবনসঙ্গী কীভাবে বিদেশি নাগরিক হন?" শুধু তাই নয়, ইউথ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রিনিকি ভূঁইয়ার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE), অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা এবং মিশরের মতো দেশগুলোর পাসপোর্ট রয়েছে। ভারতীয় আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের কোনও স্থান নেই, তাই এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তদন্তের দাবি জানিয়েছে দলটির নেতারা।
&t=1sকংগ্রেসের এই আক্রমণের পেছনে রয়েছে পুরনো রাজনৈতিক হিসাব। এর আগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের স্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই পবন খেরা বলেন, বিজেপি এখন নিজের তৈরি করা জালে নিজেই আটকা পড়েছে। অন্যের স্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা মুখ্যমন্ত্রী এখন নিজের পরিবারের বিষয়ে কেন নীরব, সেই প্রশ্নও তুলছে বিরোধী শিবির। যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য বড় এক ধাক্কা হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই 'পাসপোর্ট বিতর্ক' আসামের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।















