আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের বিষাক্ত পানীয় জলের আতঙ্ক। ফের ঘটনাস্থল বিজেপি শাসিত রাজ্য। দূষিত পানীয় জল খাওয়ার পর থেকেই একের পর এক বাসিন্দা গুরুতর অসুস্থ। যা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায়। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেটার নয়ডায় ডেল্টা ১ সেক্টরে পানীয় জলের সঙ্গে নর্দমার জল মিশে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত তিনদিনে একের পর এক বাসিন্দা সেই জল খেয়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই দূষিত পানীয় জল খাওয়ার পর থেকেই ডায়রিয়া, পেট খারাপ, ঘনঘন বমি, মাথা যন্ত্রণা ও জ্বরের মতো উপসর্গ রয়েছে সকলের। একের পর এক বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সেই জল খেয়ে আরও কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় সিং জানিয়েছেন, ওই জল ও জলের পাইপ পুরোপুরি হলুদ ও নোংরা হয়ে আছে। এমনকী তাঁর বাড়িতেও ওই জল খেয়ে সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ডায়রিয়া ও বমির উপসর্গ রয়েছে তাদের। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রুক্মিণী সিং ভারতি জানিয়েছেন, ওই পানীয় জল থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে।
একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়ার পরেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। মাটি খুঁড়ে জল সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই জলের নমুনা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষাগারে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নর্দমার জল পানীয় জলের পাইপলাইনে ঢুকে পড়েছিল। বিষয়টি ঘিরে তদন্ত চলছে।
প্রসঙ্গত, অতি সম্প্রতি বিজেপি শাসিত আরেকটি রাজ্য মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল। এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন ন'হাজারের বেশি বাসিন্দা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও ন'হাজারের বেশি মানুষ। অনেকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। শতাধিক রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরপর গুজরাটের গান্ধীনগরেও বিষাক্ত জলের অভিযোগ উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনের মধ্যে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও রয়েছে।
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম।
