আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে আবারও বিপত্তি। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের পর এবার ঘটনাস্থল গুজরাটের গান্ধীনগর। কমপক্ষে শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত। যা ঘিরে আবারও বিষাক্ত পানীয় জলের আতঙ্ক ছড়াল। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনের মধ্যে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও রয়েছে। 

 

গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম। 

 

প্রশাসনের তরফে জানা গেছে, গত দিনে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। একধাক্কায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের জল ফুটিয়ে খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সকলকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত গান্ধীনগরের জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন মন্ত্রী নিজে। পরিস্থিতি ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে জোরকদমে। 

 

অতি সম্প্রতি বিজেপি শাসিত আরেকটি রাজ্য মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল। এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন এক হাজারের বেশি বাসিন্দা। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ১০০ জন। অনেকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। শতাধিক রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুধুমাত্র গত বুধবার ৬০ জন নতুন করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

 

গত মাসের শেষে মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন, 'আমরা সকল অসুস্থ বাসিন্দাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে ওই গ্রামে‌। গতকাল থেকে হাসপাতালে রোগীদের ভর্তির হার কমেছে। অসুস্থদের মধ্যে অধিকাংশই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। যাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর, তাঁদের শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।' 

 

বিজেপি মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অরবিন্দ হাসপাতালে ১০০ শয্যা ও মেওয়াই হাসপাতালে শতাধিক শয্যার ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে ৫০টি নতুন জলের ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। বাসিন্দাদের জল ফুটিয়ে খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে ক্লোরিন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আগামী দু'দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।