আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে ছোট্ট কমেন্ট। তা থেকেই তুমুল বচসা। শেষমেশ ১৭ বছরের কিশোরকে পিটিয়ে খুন করা হল। শিউরে ওঠা কাণ্ড রাজধানী দিল্লিতে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লিতে। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে একদল কিশোরের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্ট ঘিরে বচসা হয়েছিল তাদের মধ্যে। শেষমেশ কিশোরকে বেধড়ক পিটিয়ে খুন করে তারা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিলোকপুরী এলাকায়। অভিযুক্ত ছ'জন কিশোরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ১৭ বছরের মৃত কিশোরের নাম, মোহিত। সে ইন্দ্র ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় তার ওপর হামলা করে অভিযুক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে মোহিতের মন্তব্য ঘিরে বচসা হয়েছিল তাদের মধ্যে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের ইনস্টাগ্রামের পোস্টে মোহিত লিখেছিল, 'তুই তো আমার ছোট ভাইয়ের মতো!' এই মন্তব্য দেখেই রাগে চটে যায় ওই অভিযুক্ত কিশোর। শেষমেশ তার উপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একদল কিশোর মোহিতকে ঘিরে চরম হেনস্থা করতে শুরু করে। এরপর লাথি, ঘুষি মেরে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে। মোহিত মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরেও মারধর থেকে রেহাই পায়নি। একজন তাদের থামাতে এসেছিল। তাঁকেও অভিযুক্তরা মারধর করে।
এরপর মোহিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই গুরু তেজ বাহাদুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে কিশোর চিকিৎসা চলাকালীন মারা যায়। পরিবারের তরফে এফআইআর দায়ের হতেই ছ'জন অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা ছিল। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর চরম পদক্ষেপ করেন মা। ন'দিনের সদ্যোজাতর গলা কেটে খুন করেন তিনি। জেরায় খুনের ঘটনাটি স্বীকার করেছেন ঘাতক মা। শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে দিল্লির বাবা হরিদাস কলোনিতে। গোবিন্দ নামের এক ব্যক্তি থানায় এসে পুলিশকে জানান, তাঁর স্ত্রী ন'দিনের কন্যাসন্তানের গলা কেটে খুন করেছেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আবাসনের দ্বিতীয়তলায় একটি ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অন্য একটি ঘর থেকে মহিলাকে আটক করে তারা।
টানা দুইদিন জেরার পর তরুণী স্বীকার করেন, সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের গলা কেটে তিনি খুন করেছেন। কারণ, কন্যাসন্তান তিনি চাননি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গোবিন্দ পেশায় শ্রমিক। তাঁর একটি ছেলে আছে। বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও মা, ভাইও থাকেন। অভাব অনটন রয়েছে সংসারে। এই পরিস্থিতিতে কন্যাসন্তানের জন্ম মেনে নিতে পারেননি তরুণী।
