নিতাই দে: "রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের উন্নত ও আধুনিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাদানেও গুরুত্ব দিতে হবে। ছাত্রছাত্রীরা ভালো ফলাফল করলে এবং সমাজের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে তার কৃতিত্ব শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরই প্রাপ্য। শিক্ষক সমাজই আগামী প্রজন্ম গঠনের মূল কারিগর", বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলার রবীন্দ্র ভবনে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে স্নাতকোত্তর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড: মানিক সাহা।

এই দিন মোট ৮৬৫ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ৩৪ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজ্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের পাশাপাশি নতুন পদ সৃষ্টি করেও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চাকরি পেতে কোনও সুপারিশের প্রয়োজন হয় না, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ করা হচ্ছে।"
এর পাশপাশি চাকরিপ্রার্থীদের পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেও সরকার স্বচ্ছ নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "রাজ্য সরকার একদিকে যেমন পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে একইসঙ্গে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াও অব্যাহত রেখেছে। সরকারের লক্ষ্য মানুষের আস্থা অর্জন করা। ছাত্রছাত্রীদের মানসিকতা বুঝে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাঠদান করতে হবে।"

মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যালয়গুলিতে সুস্থ ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। গুণগত শিক্ষার প্রসারে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। ২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধীনে মোট ৭,১০৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ২১,৮২৫ জন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কন্ট্রাকচুয়াল ও আউটসোর্সিং ভিত্তিতে আরও ২৪,০৭৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে রাজ্যের ৫৭৩টি উচ্চ ও উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দক্ষতামূলক শিক্ষা চালু হয়েছে। ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে ১,৩৮৪টি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে আইসিটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৯৪৯টি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাস চালু করা হয়েছে। এছাড়া এসটি, এসসি, ওবিসি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য ১৫টি কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ১,৭২৭টি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিদ্যালয়গুলিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা এবং জীবনমুখী দক্ষতা বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘সক্ষম ত্রিপুরা’ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতেও রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেক বিদ্যালয় ও সমগ্র শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা রাজিব দত্ত সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।















