আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে ভারতের মত আমদানিকারী দেশের কপালে রীতিমত চিন্তার ভাঁজ।
এই টানাপড়েনের মধ্যেই শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইউরোপের চার দেশ- নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও ইতালি সফরে বেরোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লক্ষ্য স্পষ্ট- জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং ভারতকে বিশ্ব-উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা।
শুক্রবার আবু ধাবিতে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে। ২০১৪ সাল থেকে এ নিয়ে মোদি আট বার আমিরশাহি গেলেন।
বর্তমান অস্থির সময়েও আমিরশাহি ভারতের অন্যতম বিশ্বস্ত জ্বালানির জোগান কেন্দ্র। সূত্রের খবর, রান্নার গ্যাস এবং জরুরি পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হতে চলেছে। দুই দেশের বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে।
ইউরোপের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য শরিক নেদারল্যান্ডস এখন ভারতকে নিছক আর বাজার নয়, বরং এক শক্তিশালী দেশ হিসেবে গণ্য করছে। মোদির এই সফরে সেমিকন্ডাক্টর, হাইড্রোজেন এবং জল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সহযোগিতার রাস্তা খুলছে। গুজরাটের ধোলেরায় সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরির জন্য টাটা ইলেকট্রনিক্স এবং ডাচ সংস্থা ‘এএসএমএল’-এর মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা এই সফরেই।
দীর্ঘ আট বছর পর সুইডেন সফরে যাচ্ছেন মোদি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে- সুইডিশ সংস্থা ‘সাব’ হরিয়ানায় তাদের প্রথম কারখানা গড়ছে। আবার নরওয়ের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক মোড় নিচ্ছে। ৪৩ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরওয়ে যাচ্ছেন। সমুদ্রবিজ্ঞান, পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণ এবং ক্লিন এনার্জি নিয়ে নরওয়ের উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চায় দিল্লি।
সফরের শেষ পর্যায়ে মোদি পৌঁছবেন ইতালিতে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তাঁর বৈঠক। ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর-এর ক্ষেত্রে ইতালি ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শরিক। টাটা মোটর্সের বড় বিনিয়োগ থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি- সব মিলিয়ে রোমের সঙ্গে দিল্লির বন্ধুত্ব এখন তুঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রীর এই পাঁচ দেশ সফর ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।















