আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় এক ভয়াবহ রোপওয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রায়পুরের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী তরুণী আয়ুষি সৎকার। রবিবার সকালে বাঘবাহরা তহসিলের খল্লারি (ভীমখোজ) গ্রামের পাহাড়ে অবস্থিত খল্লারি মাতা মন্দিরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রলির তার ছিঁড়ে পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যাওয়ায় আয়ুষির মৃত্যু হয় এবং তাঁর স্বামী ঋষভ ধাবরে ও ছয় বছরের এক শিশুসহ আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার সবথেকে চাঞ্চল্যকর দিকটি হলো রোপওয়েটির রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস। জানা গেছে, নবরাত্রির ভিড় সামলানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে রোপওয়েটির যান্ত্রিক পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় কীভাবে একটি চলন্ত ট্রলির তার ছিঁড়ে পড়ল, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, রক্ষণাবেক্ষণের সময় তারের গুণমান সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, নাকি স্রেফ দায়সারাভাবে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল।
রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ যখন ট্রলিটি সাতজন যাত্রী নিয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে নামছিল, তখনই হঠাৎ তার ছিঁড়ে সেটি মন্দির চত্বরে আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহূর্তে আনন্দমুখর মন্দির চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গাফিলতি প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
ভারতে তীর্থস্থানগুলিতে রোপওয়ে দুর্ঘটনা নতুন নয়। গত বছর রাজনন্দগাঁও এবং ২০২২ সালে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরেও বড়সড় বিপর্যয় ঘটেছিল। বারবার এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, দেশে রোপওয়ে নিরাপত্তার জন্য কোনও নির্দিষ্ট জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা কঠোর নীতিমালার অভাব রয়েছে। বর্তমানে খল্লারি মাতা মন্দিরের রোপওয়ে পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
