আজকাল ওয়েবডেস্ক: জীবন যেন প্রতি মুহূর্তে সকলকেই চমকে দেয়। স্কুলে, কলেজে পড়াশোনার সময়, পড়ুয়াদের ধারণা তৈরি হয়, ক্লাসের প্রথমসারির সবাই একদিন নিশ্চয়ই সুপ্রতিষ্ঠিত হবেন। প্রচুর অর্থ উপার্জন করবেন ক্লাসের ফার্স্ট বয়, ফার্স্ট গার্লরা। বড় হয়ে নিশ্চয়ই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী হবেন।
কিন্তু সব ধারণাই সবসময় সত্যি হয় না। পড়াশোনা করলেই, গাড়িঘোড়া সবসময় চড়া হয় না। এমনটাই বাস্তবে ঘটতে দেখা গেল। সম্প্রতি এক অ্যাপের মাধ্যমে বাইক বুক করেছিলেন এক যুবক। বাইকে চড়ার আগেই চালককে দেখে চমকে ওঠেন তিনি। কারণ? ওই যুবক জানিয়েছেন, অ্যাপ বাইকের ওই চালক তাঁর ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিলেন।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে ওই যুবকের সঙ্গে অ্যাপ বাইকের চালকের কথোপকথন রয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে বাইক বুক করেছিলেন উমর নামের এক যুবক। অ্যাপ বাইকের চালক আসতেই তিনি চমকে যান। চন্দন নামের ওই অ্যাপ বাইকের চালক আদতে তাঁর ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিলেন।
উমর চন্দনকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি অ্যাপ বাইক চালাচ্ছেন? চন্দন জানান, 'আমরা যেমন পরিকল্পনা করি, জীবনে সবসময় তা ঘটে না।' এরপরই তিনি বন্ধুকে বলেন, 'চিন্তা করিস না। তোর থেকে কোনও ভাড়া নেব না।'
দুই বন্ধুর এই কাহিনি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একজন লিখেছেন, 'ক্লাসের ফার্স্ট বয় এখন অ্যাপ বাইক চালাচ্ছেন। এটা খুবই হৃদয়বিদারক ঘটনা।' আরেকজন লিখেছেন, 'দেশে বেকারদের সংখ্যা বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিত হয়েও উপার্জন করতে পারছেন না। এই ঘটনা মর্মান্তিক।'
এক যুবক ওই পোস্টে লিখেছেন, 'স্কুল, কলেজের মার্কশিট শেষ কথা বলে না। এটাই আবারও প্রমাণিত হল।' আরেকজন লিখেছেন, 'এত নম্বর, ভাল মার্কশিট থেকেও কোনও লাভ হয় না। জীবন সত্যই অনিশ্চিত।' তবে একজন প্রশংসা করে লিখেছেন, 'চন্দনের শান্ত হাসি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ওঁর মানসিক জোর অনেক বেশি।'
