আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধুমধাম বিয়ের আয়োজন। খাওয়াদাওয়ায়, নাচগানে মেতে নিমন্ত্রিতরা। আচমকাই ছন্দপতন। বিয়ের আসরে বরযাত্রী পৌঁছনোর পরেই চরম পদক্ষেপ করল কনের পরিবার। বরযাত্রী পৌঁছনোর পরেই বিয়ে ভাঙার ঘোষণা করল পাত্রীর পরিবার।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শোরগোল ছড়িয়েছে। জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগেই কনের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, বিয়ের আয়োজন জাঁকজমকপূর্ণ করা চাই। তাতে নতুন কিছু চমক থাকবে। বরযাত্রীদের সঙ্গে নাচুনে গরিলা নিয়ে আসার আবদার করেছিল পাত্রীর পরিবার।
হবু শ্বশুরবাড়ির ইচ্ছে পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পাত্র। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখেন। এমনকী কথা দেন, বরযাত্রীদের সঙ্গে নাচুন গরিলাও আসবে। বিয়ের দিন ঢাকঢোল পিটিয়ে, ব্যান্ড পার্টি নিয়ে নাচতে নাচতে বরযাত্রী ঢোকে। কিন্তু সঙ্গে ছিল না নাচুনে গরিলা। শুরুতে সকলেই ভেবেছিলেন, ট্রাফিকে কোথাও আটকে পড়েছে ওই নাচুনে গরিলা।
যা ঘিরে পাত্রকে গরিলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাও করেন কয়েকজন। তখনই আতঙ্কে ঘামতে ঘামতে পাত্র জানান, শেষমুহূর্তে আয়োজকদের তরফে ওই নাচুনে গরিলা পাঠানো হয়নি। যা ঘিরেই পাত্রের বাবা ও মা রেগে আগুন। কথার খেলাপ করার অভিযোগ তোলেন পাত্রের বিরুদ্ধে। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকেই তুমুল বচসা শুরু হয়। অবশেষে সেই বিয়েই ভেঙে দেয় পাত্রীর পরিবার।
গত মে মাসে প্রাক্তন প্রেমিকার কথা মনে পড়তেই এক পাত্র বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন। ধুমধাম করে বিয়ের আসর বসেছিল। হুল্লোড়ে মেতেছিলেন আত্মীয় থেকে আমন্ত্রিতরা। বিয়ের অর্ধেক আচার-অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়েও গিয়েছিল। ছ'পাক ঘোরার পর হঠাৎ একটি ফোন আসে পাত্রের ফোনে। এরপরই গাঁটছড়া খুলে ফেলেন তিনি। সাতপাক ঘোরার ঠিক আগের মুহূর্তে জানিয়ে দেন, এই বিয়ে তিনি করবেন না। যা ঘিরে তুমুল শোরগোল গোটা বিয়েবাড়িতে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের করৌলী জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার নাদোতি তালুকে বিয়ের আসরটি বসেছিল। চোখধাঁধানো আয়োজন ছিল সেখানে। ছ'পাক ঘোরার পর পাত্র কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপরই জানিয়ে দেন, তিনি বিয়ে করবেন না। পাত্রের এহেন আচরণে প্রথমে হকচকিয়ে যান সকলে। পাত্রীও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
দু'পক্ষের মধ্যে অশান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, পাত্র, তাঁর বাবা ও কয়েকজন আত্মীয়কে আটকে রাখে পাত্রীর পরিবার। বিয়েতে ৫৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তাঁরা। পাত্রের শেষমুহূর্তের সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতি থেকে মানহানিও হয়েছে তাঁদের। সেই ক্ষতিপূরণের দাবি করেন সকলে।
শেষমেশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পঞ্চায়েত সদস্য, পুলিশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করে। কিন্তু তারপরেও অশান্তি থামেনি। পাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, সম্ভবত ছ'পাক ঘোরার পর পাত্রকে তাঁর প্রেমিকা ফোন করেছিলেন। সেই ফোন পেয়েই বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর আর সাতপাক ঘোরেননি।
