আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিহার থেকে ফের কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার আরাহ-র এক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে বিস্ফোরণের সময় কংগ্রেসের ‘রাজপরিবারের’ ঘুম উড়ে গিয়েছিল। তাঁর কটাক্ষ, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরও পাকিস্তান ও কংগ্রেসের নামদাররা এখনও ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজ ভারত নিজের শক্তিতে জঙ্গিদের ঘাঁটিতে ঢুকে তাদের শেষ করছে। সম্প্রতি আমরা ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযান চালিয়েছি। এটা কি আমাদের দেওয়া গ্যারান্টির প্রমাণ নয়? আমাদের সেনার এই সাহসিকতায় প্রত্যেক ভারতবাসীর গর্ব হওয়া উচিত। কিন্তু কংগ্রেস ও আরজেডি এর পরেও অসন্তুষ্ট। পাকিস্তানে বিস্ফোরণ হলে কংগ্রেসের রাজপরিবারের ঘুম উড়ে যায়। আজও তারা ও পাকিস্তান, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি।"
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করা ছিল 'মোদির গ্যারান্টি', আর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণও হয়েছে। তাঁর কথায়, 'আজ জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সংবিধান পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে।'
রবিবারের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শুধু বিরোধী জোটকে আক্রমণ করেননি, এনডিএ সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলিও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, 'বিহারের মানুষ রেকর্ড সংখ্যক ভোটে এনডিএ সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনবে। এই সরকার সৎভাবে কাজ করবে, দূরদর্শী পরিকল্পনায় এগোবে এবং বিহারকে একটি উন্নত রাজ্যে পরিণত করবে। আমাদের লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’, আর তার প্রথম ধাপ হচ্ছে ‘উন্নত বিহার’।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে মোদির এই মন্তব্য আসলে বিজেপির কৌশলগত প্রচারের অংশ। তিনি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সাফল্যকে জাতীয় গর্বের সঙ্গে যুক্ত করে ভোটারদের আবেগে টান দিতে চাইছেন। পাশাপাশি, কংগ্রেসকে দুর্বল দেখাতে চাইছেন।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও দাবি করেন, বিহারে ফের এনডিএ-ই সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন, “২০০৫ সালের পর থেকে বিহারে আইনশৃঙ্খলা ও পরিকাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছে, তা মানুষ নিজের চোখে দেখেছে। আগে আলোচনা হতো ডাকাতি, হত্যা আর লুঠ নিয়ে, এখন আলোচনা হয় উন্নয়ন আর কর্মসংস্থান নিয়ে।”
বিহারে আগামী ৬ ও ১১ নভেম্বর দু'দফায় ভোট হবে এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ভোট গণনা।
