আজকাল ওয়েবডেস্ক: জল্পনাই সত্যি হল। নীতীশের ছেড়ে যাওয়া কুর্সিতে বসবেন তাঁরই ডেপুটি সম্রাট চৌধিরী। মুখ্যমন্ত্রী পদে আগামীকালই শপথ নেবেন সম্রাট।
মঙ্গলবার বেলায় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পরই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন নীতীশ কুমার।
এই বদল বিহারের রাজনীতি তো বটেই, এই সন্ধিক্ষণ রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ-এর অভ্যন্তরেও এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন।
গত ১০ এপ্রিল নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। যা রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত করেছিল। সামনে চলে আসে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে নানা জল্পনা।
শোনা যাচ্ছিল যে, নীতীশ কুর্সি ছাড়লে বিহারে আসন সংখ্যার নিরিখে বিজেপির কেউ মসনদে বসবেন। এক্ষেত্রে তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ডেপুটি সম্রাট চৌধুরী। তবে অন্য বেশ কয়েকটি নামও শোনা যাচ্ছিল। এসবের মধ্যেই দিন কয়েক আগে সম্রাটকে নীতীশের বাসভবনে গিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে যে, নীতীশের কুর্সিতে সম্রাটকেই পছন্দ পদ্ম শিবিরের নেতাদের।
সেই জল্পনাই সত্যি হল। নীতীশ কুমারের ইস্তফার পর বিহারের বিধায়করা পরিষদীয় নেতা হিসাবে সম্রাটকে বেছে নেন। সাফ হয়ে য়ায়, তাঁর কুর্সিতে বসার বিষয়টিও। বিজেপি নেতা রাধা মোহন সিং বলেছেন, "অতীতের মতোই বিহারে এনডিএ-র নেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকেই বেছে নেওয়া হবে।"
এখন প্রশ্ন হল, নীতীশের বদলে সম্রাটকে কী মেনে নিতে পারবেন জেডিইউ নেতৃত্বের একাংশ? ইতিমধ্যেই দলের নেতা, কর্মীদের একাংশ নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাটনায় দলের কর্মীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পোস্টার লাগানো হয়, যেখানে নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে আরও বড় রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। অনেক নেতার কথায়, নীতীশ কুমারের দেখানো পথেই চলবে বিহার সরকার।
কেন সম্রাট চৌধুরীকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিল বিজেপি? ৫৭ বছর বয়সী সম্রাট নীতীশ মন্ত্রিসভায় ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি 'কোয়েরি' বা 'কুশওয়াহা' সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই সম্প্রদায় 'অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী' (ওবিসি) সম্প্রদাভুক্ত। অনগ্রসর জাতিগুলোর মধ্যে, যাদবদের পরেই কুশওয়াহা সম্প্রদায়ের অবস্থান। সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে তারাই দ্বিতীয় বৃহত্তম। সূত্র অনুযায়ী, নীতীশ কুমারের দল জেডি(ইউ)বিজেপির কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, যেন এই নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদে নিয়োগ করা হয়।
১৯৯০ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন সম্রাট চৌধুরী। রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দলবদল করেছেন সম্রাট। লালু যাদবের আরজেডি থেকে নীতীশের জেডি(ইউ)-তে এবং সবশেষে ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। মাঝখানের কয়েক বছর বাদ দিলে, ২০০৫ সাল থেকেই বিহারে বিজেপি, জোটের 'ছোট শরিক' হিসেবে অবস্থান করছে। তবে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে নিজেদের দলের কোনও নেতাকে বসানোর জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে আজ পর্যন্ত।
২৪৩ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় নীতীশ কুমারের দলের বিধায়ক সংখ্যা ৮৫, আর বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৮৯।
















