আজকাল ওয়েবডেস্ক: অপহরণ করে জোর করে বিয়ে। সানাই ও বিয়ের মন্ত্রের শব্দেই হুঁশ ফিরল পাত্রের। চোখ খুলেই দেখলেন বিয়ের পিঁড়িতে বসে আছেন তিনি। পাশেই বসে পাত্রী। তাঁর সিঁথিতেও সিঁদুর। যে ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় গোটা গ্রাম। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে বিহারে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, সমস্তিপুর জেলায় সরকারি চাকরির এক পরীক্ষার্থীকে অপহরণ করে, জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর তাঁকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে দেওয়াও হয়েছিল। ঘুমন্ত অবস্থাতেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

জানা গেছে, চকরাজ আলি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। যুবকের নাম, নীতীশ কুমার। তিনি হোমগার্ডের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। আচমকাই রাহুল ও রাজবংশী নামের দুই যুবক তাঁকে অপহরণ করেন। এরপর নেশাদ্রব্য মেশানো পানীয় খাইয়ে বেহুঁশ করে দেন। এরপরই নিয়ে যান বিয়ের মণ্ডপে। 

একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা গেছে, বেহুঁশ অবস্থায় বিয়ের মণ্ডপে বসে আছেন নীতীশ। তাঁর চারপাশে কী ঘটছে, কিছুই বুঝতে পারছেন না। মালাবদলের সময়েও ঠিক মতো হাত তুলতে পারছিলেন না। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক জোর করে হাত তুলে, মালাবদল করান। 

নীতীশ আরও জানিয়েছেন, বিয়ের অর্ধেক আচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর হুঁশ ফেরে খানিকটা। তারপরেও বারবার তাঁকে নেশাদ্রব্য খাওয়ানো হচ্ছিল। যাতে বিয়ে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান না পেরে। সেই অবস্থাতেই পাত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন তিনি। 

যদিও নীতীশের ঠাকুরদার গলায় ভিন্ন সুর। তিনি জানিয়েছেন, এই বিয়ে নিয়ে অতীতে একাধিকবার কথা হয়েছিল দুই পরিবারের মধ্যে। কিন্তু পাত্রীকে পছন্দ ছিল না ছেলের পরিবারের। তাই এই বিয়েতে রাজি হননি তাঁরা। এরপরই তাঁর বন্ধুরা পরিকল্পনা করে নীতীশকে অপহরণ করে জোর করে এই বিয়ে দিয়ে দেন। 

অন্যদিকে পাত্রীর দাদাও পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাত্রকে অপহরণ করে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগটি মিথ্যে। বিয়েটি দুই পরিবারের সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়েছে। পাত্রের মা ভিডিও কলে পাত্রীকে দেখেছিলেন। গত ছ'মাস ধরে পাত্র ও পাত্রী ফোনে কথা বলতেন। 

বিয়ের পরেই পাতোরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নীতীশের মা। এরপরই নীতীশকে উদ্ধার করে পুলিশ। এমনকী গোটা ঘটনাটি ঘিরেও তদন্ত জোরকদমে চালাচ্ছে তারা।