আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থাকার কথা পরীক্ষাকেন্দ্রে। এদিকে দেখা গেল বৃষ্টির জলে বাইরেই ভেসে বেড়াচ্ছে সব প্রশ্ন। সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে সেই ভিডিও। আর তা নিয়েই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ঘটনাটি বিহারের। যা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
জানা গিয়েছে, এ বছর নবম, দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ত্রৈমাসিক পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগেই ঘটনাটি ঘটে। বক্সারের একটি শিক্ষাকেন্দ্রে বাইরে বৃষ্টিতে জল থৈথৈ অবস্থা ছিল। আর সেখানেই হঠাৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের বান্ডিল ভেসে যেতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনা ও নিন্দায় সরব নেটনাগরিকেরা। প্রশ্ন উঠেছে,পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে।
বিহার বোর্ডের তরফেই ওই প্রশ্ন ও উত্তরপত্রগুলি পাঠানো হয়েছিল বলে খবর। স্থানীয় প্রধানশিক্ষকদের বক্সারের 'বুনিয়াদি স্কুল'-এ থেকে সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই আচমকা ভারী বৃষ্টি নামে। বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।
সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, স্কুল চত্বরে জমে থাকা বৃষ্টির জলে ভাসছে প্রশ্ন ও উত্তরপত্রের সিলমোহর দেওয়া বান্ডিলগুলি। তা দেখেই ক্ষুব্ধ নেটনাগরিকেরা। প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার দিকে আঙুল তুলেছেন তাঁরা। কীভাবে এতো গোপনীয় ও জরুরি এই সমস্ত নথি খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির মুখে ফেলে রাখা হল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শিক্ষাবিদ— সকলেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। অনেকের মত, এই ঘটনা বিহারের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থার এক জ্বলন্ত প্রতীক।
এ দিকে প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। শিক্ষা আধিকারিকদের দাবি, হঠাৎ বৃষ্টির কারণেই জল জমে যায়। তাই কিছুক্ষণের জন্য প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রগুলিতে জল লাগে। তবে কোনও ক্ষতি হয়নি। এর ফলে আসন্ন পরীক্ষায় কোনও সমস্যা হবে না। নির্ধারিত সূচি মেনেই হবে পরীক্ষা।
কর্তৃপক্ষ সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলেও, এই ঘটনা রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা সামগ্রী সংরক্ষণ, পরিচালনা এবং প্রশ্নপত্র বিতরণের ক্ষেত্রে নজরদারি ও সুরক্ষার অভাবকে আবারও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে বলে মতামত ওয়াকিবহাল মহলের।















