আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় হাড়হিম করা ঘটনা। এ যেন 'কেঁচো খুঁড়তে কেউটে' বেরনোর সামিল। নিখোঁজ ব্যক্তির তদন্ত করতে গিয়ে তাজ্জব পুলিশ আধিকারিকরা। ব্যক্তির বাড়ির বাথরুম থেকেই মিলল তাঁর কঙ্কালসার মৃতদেহ। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিজের স্বামীকে খুন করার কথা পুলিশের কাছে মহিলা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি তদন্তকারীদের। এমনই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে আগ্রার সিকান্দ্রা অঞ্চলে। ঘটনায় মৃত ব্যক্তির নাম সুরেন্দ্র শর্মা। বিগত প্রায় দেড় মাস সুরেন্দ্রর পরিবারের সদস্যদের অনুমান ছিল, সুরেন্দ্র নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। প্রথমে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। পাশাপাশি, নিজেরাও চারদিকে তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিলেন। শেষমেশ জানা গেল ঘরের ভেতরেই ঘটে গিয়েছে নৃশংস অপরাধের ঘটনা।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশ জানতে পেরেছে, সুরেন্দ্র কোনও কাজ করতেন না। সারাক্ষণ মদ্যপ অবস্থায় থাকতেন। এর পর ওই অবস্থাতেই প্রতিদিন বাড়ি ফিরে স্ত্রী রুবির ওপর নির্মম অত্যাচার চালাতেন। তাঁদের সংসার চলত সুরেন্দ্রর মায়ের পেনশনের সামান্য টাকাতেই।
পুলিশি জেরায় রুবি জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি গার্হস্থ্য হিংসার শিকার। ক্রমাগত স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে যেতে হত তাঁকে। গত ২৬ মে তেমনই এক চরম অত্যাচারের পর সুরেন্দ্রর এই পরিণতি করেন তিনি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতেই স্বামীকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন রুবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরেন্দ্রর মৃত্যুর পর অপরাধ ধামাচাপা দিতেই রুবি প্রথমে নিজেদের বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে একটি গর্ত তৈরি করেন। এরপর সেখানে স্বামীর মৃতদেহ লুকিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দেন।
অন্যদিকে, সুরেন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ভাই অনিল শর্মা সিকান্দ্রা থানাতে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। সেই সূত্রেই গত ৪৫ দিন ধরে পুলিশ এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছিল। তদন্তের প্রয়োজনে বহুবার পুলিশ ওই বাড়িতে যাতায়াত করে। তবে বাথরুমের মেঝের তলাতেই যে সুরেন্দ্রর লাশ চাপা দেওয়া রয়েছে, তা বিন্দুমাত্র টের পাননি।
গত বৃহস্পতিবার তদন্তকারী দল রুটিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ওই বাড়িতে যান। তদন্তের কাজ শেষে ফিরেও আসেন। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরেই এক নাটকীয় মোড় আসে। ওই দিন মাঝরাতে রুবি নিজেই হঠাৎ তাঁর শাশুড়ির কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বীকার করেন, সুরেন্দ্র নিখোঁজ হননি। বরং স্বামীকে খুন করে বাড়ির ভেতরেই পুঁতে রেখেছেন তিনি। এই স্বীকারোক্তি শুনেই সুরেন্দ্রর ভাই অনিল পুলিশে খবর দেন। তখনই পুলিশের টিম এসে রুবিকে হেফাজতে নেয়। থানায় এনে তাঁকে জেরা করতেই পুলিশের কাছেও নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন রুবি।
এর পর রুবির কথার ভিত্তিতেই পুলিশ বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময়-সহ বাকি তথ্য জানতে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই বাড়ি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। রুবি একাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নাকি দেহ লোপাটের পেছনে অন্য কারও হাত রয়েছে— তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।















