আজকাল ওয়েবডেস্ক: পারিবারিক বিবাদের জেরে একের পর এক আত্মহত্যা, খুন। এবার নিজের বাবা-মাকেই কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞান নগর এলাকার একটি আবাসনে। অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সি যুবক রোহনচন্দ্র ভট্টকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম নবীনচন্দ্র ভট্ট (৬০) ও শ্যামলা ভট্ট (৫৫)। নবীনবাবু নৌবাহিনীর প্রাক্তন ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী শ্যামলাদেবী পেশায় দন্তচিকিৎসক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক কোনও বিবাদের জেরে মেজাজ হারিয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে বাবা-মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন রোহন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আবাসনের এক প্রতিবেশীর অভিযোগের ভিত্তিতে এইচএএল থানার পুলিশ অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় তদন্তকারীরা।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মৃত দম্পতির মেয়ে বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। তিনি শহরে ফিরলে হাসপাতাল মর্গে দেহ দুটির ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে খুনের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, চিকিৎসক সেজে চিকিৎসার নামে চরম প্রতারণা! এক ভুয়ো চিকিৎসকের দেওয়া ইঞ্জেকশনে প্রাণ হারালেন নভি মুম্বইয়ের ২১ বছর বয়সি এক তরুণী। অভিযুক্ত যুবক আদতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাশি এলাকায়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম প্রচিতি ভিকুরাম ভুভাড়। পরিবার সূত্রে খবর, ঋতুচক্রের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত সন্দেশ যশবন্ত পাস্তে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রচিতির বাড়িতে আসেন। তিনি দাবি করেন, তরুণী ‘পিসিওডি’(পলিসিস্টিক ওভারি)-তে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য পাঁচটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে জানিয়ে ১৫ হাজার টাকাও নেন ওই যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেন সন্দেশ। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রচিতি জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম ভর্তি ব্যাগটি তরুণীর বাবাকে দিয়ে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রচিতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের চাপে পড়ে শেষে নিজের অপরাধ কবুল করেন সন্দেশ। জানান, তিনি চিকিৎসক নন, আন্ধেরির একটি নার্সিং হোমের সামান্য ওয়ার্ড বয় মাত্র। ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বাশি থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন ও প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। তরুণীর শরীরে ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
