আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসায় চরম গাফিলতি নাকি নিছক নৃশংসতা? উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে প্রসব করাতে গিয়ে এক সদ্যোজাতর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক আশা কর্মী ও দাইয়ের বিরুদ্ধে। এই হাড়হিম ঘটনায় তোলপাড় রাজ্যজুড়ে। জানাজানি হতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই গায়েব দুই অভিযুক্ত। ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রের খবর, গত ২৫ জানুয়ারি সকালে বুলন্দশহরের রুঠা গ্রামের বাসিন্দা রাজকুমারীর আচমকা প্রসববেদনা শুরু হয়। তাঁর স্বামী ঝম্মন খবর দেন গ্রামের এক আশা কর্মী রূপাবতীকে। অভিযোগ, নিয়ম মেনে সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর বদলে রূপাবতী নিজের পরিচিত এক দাইকে ডেকে আনেন। এর পরই শুরু হয় চরম অব্যবস্থা।
পরিবারের দাবি, প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলেও হাতুড়ে কায়দায় জোর করে শিশুটিকে বের করার চেষ্টা করেন রূপাবতী ও জমিলা নামে ওই মহিলা। শিশুটি উল্টো অবস্থায় থাকায় বিপত্তি আরও বাড়ে। অভিযোগ, প্রসবের জন্য অস্বাভাবিক জোরে টানাটানি করতেই সদ্যোজাতর গলা ছিঁড়ে যায়। শরীরের বাকি অংশ বেরিয়ে এলেও মাথাটি মায়ের গর্ভেই আটকে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে অবস্থা ভয়াবহ বুঝে প্রসূতিকে যন্ত্রণার মুখে ফেলেই চম্পট দেয় ওই দুই অভিযুক্ত। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজকুমারীকে মিরাটের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
জাহাঙ্গীরাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঝম্মনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই মহিলার খোঁজে বর্তমানে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে কেন বাড়িতেই প্রসবের ঝুঁকি নেওয়া হলো, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
