আজকাল ওয়েবডেস্ক: বছরের শুরুতেই রক্তারক্তি কাণ্ড বেঙ্গালুরুতে। বৃহস্পতিবার ভোরে এক অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হলেন ৩৬ বছর বয়সি এক অটোচালক। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম রেচান্না পি। এই ঘটনায় কেপি অগ্রহারা থানায় একটি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত ১ জানুয়ারি রাত ১২টা ১৯ মিনিট নাগাদ। পেশায় ফুল বিক্রেতা তথা মৃতের এক আত্মীয় গিরিশ এস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। গিরিশ জানান, ওই সময় তাঁর বন্ধু চন্দ্রশেখর ওরফে চন্দ্রু ফোন করে জানান যে, রেচান্নাকে কয়েকজন দুষ্কৃতী ছুরি মেরেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি ছুটে যান গিরিশ। জানা গিয়েছে, এই নৃশংস ঘটনা ভুবনেশ্বরী নগর সংলগ্ন নন্দন সার্কেলের কাছে, অর্থাৎ রেচান্নার নিজের বাড়ির সামনেই ঘটে। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেচান্নার বুকে এবং পিঠের বাঁ দিকে গভীর আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গিরিশের অনুমান, পুরনো কোনও শত্রুতার জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত আততায়ীর পরিচয় জানা যায়নি। ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড, বর্তমানে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আততায়ীর খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, মন্দিরের ভিতরে ভক্তকে খুন। পূর্ব দিল্লির মানসরোবর পার্ক এলাকায় একটি মন্দিরের ভিতরে ৪৮ বছর বয়সি এক মহিলা ভক্তকে ছুরি মেরে খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে দুপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কিছু পরেই অভিযুক্ত আর এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ডিডিএ ফ্ল্যাটস কমপ্লেক্সের মন্দিরে ঘটনাটি ঘটে। মহিলা প্রার্থনা করছিলেন। এমন সময় তাঁকে আক্রমণ করা হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ ছুরির আঘাতের খবর পেয়ে পুলিশে ফোন আসে। নিহত মহিলার নাম কুসুম শর্মা। তিনি মানসরোবর পার্ক এলাকারই বাসিন্দা। জানা গিয়েছে এই ঘটনায় তাঁর মাথা ও শরীরের উপরের অংশে একাধিক আঘাত লাগে। দ্রুত তাঁকে গুরু তেজ বাহাদুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ডিসিপি প্রশান্ত গৌতম জানিয়েছেন, "মূল অভিযুক্ত এক মহিলাকে আমরা আটক করেছি। তাঁর নাম আচল সাক্সেনা। খুনে ব্যবহার করা অস্ত্রটিও উদ্ধার হয়েছে।" পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আটক মহিলা-সহ মোট দু’জন মিলে ছুরি দিয়ে বার বার কুসুম শর্মাকে আঘাত করেন, যার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়। ডিসিপি বলেন, "প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, পুরনো কোনও শত্রুতার কারণে এই খুন। তবে আরও তদন্ত চলছে। ঘটনার কিনারা করতে একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।" পুলিশের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের ধরতে বিশেষ দল তৈরি করা হয়। তারা পরে এক অভিযুক্তকে আটক করে।
খুন করার আগে ও পরে অভিযুক্তরা কোথায় গিয়েছিল, তা জানতে পুলিশ ডিডিএ ফ্ল্যাটস, আশপাশের রাস্তা ও পার্কের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। খবর অনুযায়ী, অন্য অভিযুক্ত চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। কাজে লাগানো হচ্ছে স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্য। ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
খুনের আসল কারণ এখনও জানা না গেলেও, প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান এটি ব্যক্তিগত শত্রুতা। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, "ব্যক্তিগত বিবাদ-সহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও সম্ভাবনাই বাদ দেওয়া হচ্ছে না।" বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে নিহতের পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মানসরোবর পার্ক থানায় খুনের মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
