আজকাল ওয়েবডেস্ক: অসমের শিবসাগর জেলায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। মৃতের নাম রঞ্জিত পান্ডব (৪১)। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় তিনি প্রথমে প্রতিবেশীদের ওপর দা নিয়ে চড়াও হন এবং পরে পুলিশকে আক্রমণ করতে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ডিমৌ এলাকার বরদিরাই চা বাগানে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জিত নিয়মিত মদ্যপান করতেন। এমনকী এলাকায় যথেষ্ট উগ্র মেজাজের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাড়িতে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের ওপর প্রায়ই চলত অকথ্য নির্যাতন। লাঠি দিয়ে পেটানো বা দা উঁচিয়ে খুনের হুমকি দেওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতে গত রবিবারই তাঁর পরিবার ঘর ছেড়ে এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

মঙ্গলবার রাতে ফের মত্ত অবস্থায় এলাকায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন রঞ্জিত। সেই সময় প্রতিবেশী মর্তিন পান্ডব ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে শান্ত হতে বলেন। তাঁদের মেয়ের সামনেই পরীক্ষা, তাই পড়াশোনার সমস্যার কথা বলতেই মেজাজ হারান রঞ্জিত। হাতের দা নিয়ে তিনি ওই দম্পতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। দায়ের কোপে মর্তিনের ঘাড় এবং তাঁর স্ত্রীর পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গোলমাল থামাতে গ্রামের বয়স্করা এগিয়ে এলে রঞ্জিত তাঁদেরও তাড়া করেন। খবর পেয়ে ডিমৌ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের দিকেও দা উঁচিয়ে তেড়ে যান তিনি। দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর চেষ্টা করলেও রঞ্জিত থামেননি। এরপর আত্মরক্ষার্থে কমান্ডো রূপম বরপাত্র প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি এবং পরে রঞ্জিতের পা লক্ষ্য করে গুলি চালান। উরুতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রঞ্জিতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, আক্রান্ত মর্তিন পান্ডব বর্তমানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে রঞ্জিতের পরিবার গ্রামে ফিরলে এলাকায় কান্নার রোল পড়ে। স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা জানান, রঞ্জিতের লাগাতার অত্যাচারের কারণেই তাঁরা বাড়ি ছেড়েছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মদ্যপ রঞ্জিতের দৌরাত্ম্যে ওই পাড়ায় সবসময় এক আতঙ্কের পরিবেশ বজায় থাকত।