আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক ধাক্কায় ৩,৬০০ কোটি টাকা! মঙ্গলবার অসমের প্রায় ৪০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ৯,০০০ টাকা করে পাঠাল হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার। রাজ্যের ইতিহাসে সরাসরি উপভোক্তার হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সবথেকে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, এই টাকার মধ্যে গত চার মাসের বকেয়া মাসিক সহায়তার পাশাপাশি আসন্ন বিহু উৎসবের বিশেষ বোনাসও ধরা রয়েছে। গুয়াহাটির খানাপারায় এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অর্থ বিলি প্রক্রিয়ার সূচনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি দীর্ঘদিনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তিনি স্পষ্ট করে দেন, মূলত বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না এবং ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত পরিবার বা দুস্থ মহিলারাই এই সুবিধার আসল হকদার। কড়া যাচাইয়ের মাধ্যমেই উপভোক্তা নির্বাচন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরাসরি মহিলাদের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অসম আজ দেশের অন্যতম পথপ্রদর্শক।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ এই উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, গত পাঁচ বছরে শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবার ও সমাজে তাঁদের সম্মান বেড়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি উপভোক্তারাও।
সোনাপুরের শিবানী বড়ো ডেকা বা রাধিকা মণ্ডলদের মতো হাজার হাজার মহিলা জানিয়েছেন, এই টাকা তাঁরা ছোট ব্যবসা বা সংসারের কাজে বিনিয়োগ করবেন। তাঁদের চোখেমুখে এখন স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন।
অন্যদিকে, বড় ঘোষণা মণিপুরে। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মহিলার আর্থিক সহায়তার জন্য আগামী বাজেটে ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে রাজ্যের সরকার। রবিবার ইম্ফলে সমাজকল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মূলত কেন্দ্রের দেওয়া অনুদান থেকেই এই অর্থ খরচ করা হবে। বিগত কয়েক মাসের জাতিগত হিংসায় মণিপুরের জনজীবন একপ্রকার বিপর্যস্ত। এর ফলে মহিলারা যে চরম প্রতিকূলতা ও আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের মুখ্যসচিব পুনীত কুমার গোয়েল মণিপুরের সমাজ ও অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, সরকার এখন শুধুমাত্র ‘মহিলাদের উন্নয়ন’ নয়, বরং ‘মহিলাদের নেতৃত্বে উন্নয়নে’ জোর দিচ্ছে।
একইসঙ্গে দুস্থ মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে ‘মিশন শক্তি’, হেল্পলাইন এবং ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর মতো প্রকল্পগুলি আরও সক্রিয় করার কথাও বলেন তিনি। এ দিনের মঞ্চে রাজ্যের দুই কৃতি সন্তান- প্রখ্যাত ভারোত্তোলক কুঞ্জরানি দেবী ও লোকসঙ্গীত শিল্পী মাংকা ময়ংলম্বমকে বিশেষ ভাবে সম্মান জানানো হয়।
