আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজার টালমাটাল। জ্বালানি তেলের আকাল। এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের হেঁশেল সচল রাখতে বড় পদক্ষেপ করল মোদি সরকার। রবিবার, ২৯ মার্চ কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক বিশেষ নির্দেশিকায় জানিয়েছে, আপৎকালীন ভিত্তিতে দেশজুড়ে কেরোসিন বণ্টন করা হবে।
এমনকী যে ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেরোসিন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেখানেও আগামী ৬০ দিন বিশেষ ব্যবস্থায় এই জ্বালানি মিলবে। মূলত রান্নার জ্বালানির জোগান ঠিক রাখতে কেরোসিন মজুত ও বিক্রির নিয়মে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ দু’টি পেট্রোল পাম্প থেকে কেরোসিন বিক্রি করা যাবে।
একটি পাম্পে সর্বোচ্চ ৫,০০০ লিটার কেরোসিন মজুত রাখা যাবে।
তেল সংস্থাগুলির নিজস্ব পাম্পগুলিকে এই কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দ্রুত পরিবহণের স্বার্থে লরি বা ট্যাঙ্কারের লাইসেন্স সংক্রান্ত কিছু নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘পেশো’-র সুপারিশ মেনে ১৯৩৪ সালের পেট্রোলিয়াম আইনের বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে এই ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র।
গত কয়েক বছরে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং গোয়ার মতো ২১টি রাজ্যে সরকারি ভাবে কেরোসিন সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রাজ্যগুলিতেও ফের কেরোসিন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তালিকায় জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জও রয়েছে।
লাইসেন্সের নিয়মে ছাড় মিললেও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছে কেন্দ্র।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে-
কেরোসিন মজুত ও বিক্রির প্রতিটি হিসেব নিঁখুতভাবে রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ আধিকারিকরা যে কোনও সময় পাম্পে গিয়ে তল্লাশি চালাতে পারবেন।
এই কেরোসিন কেবলমাত্র রান্না ও আলোর কাজেই ব্যবহার করা যাবে।
প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। সরকার ইতিমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের উপর কর কমিয়ে আমজনতাকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এর জেরে রাজকোষের বিপুল ক্ষতি হলেও সরকার পিছু হটেনি। কিন্তু যুদ্ধের জল কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদি গ্যাসের সিলিন্ডারের জোগান কমে বা দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়, তবে বিকল্প হিসেবে কেরোসিনই ভরসা। তাই আগেভাগেই পাম্পের মাধ্যমে কেরোসিন পৌঁছে দেওয়ার এই বিশেষ পরিকল্পনা।
জানা গিয়েছে, আগামী দু’মাস এমনই চলবে। আপাতত কেরোসিনই হতে চলেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ‘লাইফলাইন’।















