আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ফের বিতর্কের ঝড় তুললেন এআইএডিএমকে নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সি ভে শণ্মুগম। জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারাকে ঘিরে তাঁর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনা। নারী-বিদ্বেষী এবং অশালীন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁর বক্তব্যকে।
কী বলেছেন শণ্মুগম?
ঘটনার সূত্রপাত তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরম জেলায় এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। রাজ্যের শাসক দল ডিএমকে-র বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে এআইএডিএমকে এই আন্দোলনের আয়োজন করে। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের “Tell us your dream” উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে গিয়ে শণ্মুগম বলেন—“আমি যদি নয়নতারাকে চাই, সেটা কি পূরণ করবে? কেউ যদি বলে নায়নতারাকে বিয়ে করতে চায়, সেটা কি স্ট্যালিন পূরণ করতে পারবেন?”
এই মন্তব্যের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকেই এটিকে কেবল রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং নারীদের প্রতি অবমাননাকর এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।
শাসক দল ডিএমকে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। দলের মুখপাত্র ড. সৈয়দ হাফিজুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন,“নীতির সমালোচনা করুন, কিন্তু নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করবেন না। নয়নতারাকে অপমান করা মানে সমস্ত মহিলাকেই অপমান করা। সভ্য সমাজে এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, এআইএডিএমকে-র উচিত শণ্মুগমের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।
যদিও এই ঘটনার পর এআইএডিএমকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি, দলীয় এক মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই ধরনের মন্তব্যকে সমর্থন করার দায় তাদের নয়। অর্থাৎ দল নিজেকে এই বিতর্ক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। এটি প্রথম নয়, এর আগেও মহিলাদের নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন শণ্মুগম। গত বছর তিনি দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়তো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে “বিনামূল্যে স্ত্রী দেওয়ার” কথাও ঘোষণা করতে পারেন। সেই মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল এবং একে ‘পশ্চাৎপদ’ মানসিকতার প্রতিফলন বলে অভিহিত করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে ভারতীয় রাজনীতিতে নারী-বিদ্বেষী ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ও লিঙ্গ-সংবেদনশীল সীমারেখা বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতিকেই নির্দেশ করে না, বরং সমাজে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির গভীর সংকটও প্রকাশ করে।
তামিলনাড়ুতে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক যে আরও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
