আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘন কুয়াশা। দৃশ্যমানতা শূন্য। আর সেই পরিস্থিতিতে, একেবারে বাড়ির সামনেই বিপদ। চিৎকার করে, বাবাকে ডেকেও শেষরক্ষা হল না যুবকের। শনিবার রাতের, ২৭ বছরের মৃত্যু, মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়।
ঘটনাস্থল গুরগাঁও। জানা গিয়েছে, ওই যুবক, যুবরাজ মেহতা পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। একটি কাস্টমার ডেটা সায়েন্স কোম্পানিতে কাজ করতেন তিনি। শনিবার রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওই যুবক যখন অফিস শেষ করে ফিরছিলেন, ঘন কুয়াশায় দেখা যাচ্ছিল না কিছুই। প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতা এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে নিজের গাড়িতে অফিস থেকে ফেরার সময়, বাড়ির অদূরেই নির্মাণকার্যের জন্য খনন করা জল ভর্তি প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যায় তাঁর গাড়ি। পরিস্থিতি বিচারে তিনি গাড়ির উপরে উঠে, ফোনের আলো জ্বালিয়ে চিৎকার করেন। বাবা এবং পড়শিদের ডাকেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে, ঘরের ভিতরে থাকায় কেউ শুনতেই পাননি আর্ত চিৎকার।
সূত্রের খবর, যুবকের মৃত্যুতে নড়ে বসেছে যোগী প্রশাসন। সূত্রের খবর, নয়ডা কর্তৃপক্ষের সিইও এম লোকেশকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে, সোমবার সকালে, কর্তৃপক্ষ একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করেছে এবং এলাকার ট্র্যাফিক-সম্পর্কিত কাজের জন্য দায়ী অন্যান্য কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যিনি ঘটনাটি নিয়ে উচ্চ-স্তরের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে, রাজ্য সরকার ঘটনার আশেপাশের পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। পাঁচদনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ সেরে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন যুবরাজ। কুয়াশার কারণে সামনের রাস্তা কার্যত অদৃশ্য ছিল। আচমকাই গাড়িটি রাস্তার ধারের একটি উঁচু বাঁধে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে ৭০ ফুট গভীর জলে ভরা গর্তে। গাড়ি ডুবতে শুরু করলে আতঙ্কিত যুবরাজ বাবাকে ফোন করে আর্তনাদ করে ওঠেন, "বাবা, আমি জলে ডুবে যাচ্ছি। আমায় বাঁচাও, আমি মরতে চাই না।"
খবর পেয়েই পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ তল্লাশির পর গাড়ি ও যুবরাজকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ওই রাস্তায় কোনও সতর্কবার্তা বা রিফ্লেক্টর ছিল না। বার বার বলা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা রাজকুমার মেহতা। ঘটনার জেরে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেছেন। নলেজ পার্ক থানার পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে দুর্ঘটনার পর তড়িঘড়ি ওই গর্তটি আবর্জনা দিয়ে ভরাট করার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তারপরেই, নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
