আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিহারের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার পারদ। একদিকে যখন নীতীশ কুমারের ইস্তফার পর আগামীকাল রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন সম্রাট চৌধুরী, ঠিক সেই মুহূর্তেই দীর্ঘ ২৬ বছরের পুরনো এক বিভীষিকাময় স্মৃতি ফিরে এল জনসমক্ষে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের সেই কুখ্যাত 'শিল্পী জৈন-গৌতম সিং' হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উসকে দেন জন সুরজ-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। তার সরাসরি অভিযোগ, তৎকালীন তদন্তে উঠে আসা রহস্যময় নাম 'রাকেশ কুমার' আসলে বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীই।

এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে সম্রাট চৌধুরী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সেই সময় জানান, প্রশান্ত কিশোর বিহারের মাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তার দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সেই রাকেশ কুমার ছিলেন হাজিপুরের এক সাধারণ আইসক্রিম বিক্রেতা। পিকে সস্তা রাজনীতির স্বার্থে এই কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন। কিন্তু এই বাদানুবাদ সেই পুরনো ক্ষতকে আবার টাটকা করে দেয় যা একসময় বিহার থেকে দিল্লি পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ জুলাই পাটনা ওমেন্স কলেজের মেধাবী ছাত্রী ও 'মিস পাটনা' শিল্পী জৈন এবং তৎকালীন আরজেডি ঘনিষ্ঠ গৌতম সিংয়ের রহস্যজনক মৃত্যু বিহারে আলোড়ন ফেলেছিল। শিল্পী ছিলেন এক সাধারণ বস্ত্র ব্যবসায়ীর কন্যা, আর গৌতম ছিলেন এক অনাবাসী ভারতীয় চিকিৎসকের সন্তান। সেই অভিশপ্ত দিনে শিল্পীকে ভুল বুঝিয়ে একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, সেখানে তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। পরে দক্ষিণ গান্ধী ময়দানের একটি গ্যারেজে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তাদের অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার করা হয়।

সেই সময়কার প্রবীণ সাংবাদিকদের মতে, এই ঘটনার পরতে পরতে লুকিয়ে ছিল প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির আস্ফালন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর ভাই সাধু যাদবের নাম এই ঘটনায় বারবার সামনে এলেও রহস্যজনকভাবে পুলিশি তদন্তের অভিমুখ বদলে যায়। সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করলেও শিল্পীর পোশাকে একাধিক ব্যক্তির ডিএনএ-র নমুনা পাওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত চার্জশিটে একে 'বিষ খেয়ে আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সাধু যাদব ডিএনএ পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কোনও  কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি।

২৬ বছর আগের সেই অন্ধকার অধ্যায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রশান্ত কিশোরের প্রশ্ন—সেই সময়কার অভিযুক্ত 'রাকেশ কুমার' আর আজকের 'সম্রাট চৌধুরী' কি এক ব্যক্তি? অন্যদিকে শিল্পীর পরিবার আজও এক অজানা আতঙ্কে কুঁকড়ে আছে। ২০০৬ সালে শিল্পীর ভাইকে অপহরণের পর থেকে পরিবারটি বিচার চাওয়ার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। আজকের বিহারে যখন ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে এবং বিজেপি প্রথমবার শীর্ষ পদে বসতে যাচ্ছে, তখন এক তরুণী ও এক যুবকের খুনের এই অমীমাংসিত রহস্য রাজ্যের শাসনব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।