আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২২ এপ্রিল ২০২৫, রক্তে ভেসেছিল ভূস্বর্গ। পহেলগাঁওয়ের বাইসরণে পর্যটকদের নিশানা করে গুলি চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। ঝাঁঝরা হয়ে যায় ২৬ প্রাণ। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। বুধবার পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তি। এসবের মধ্যেই বুধবার সামনে এল জইশ-ই-মহম্মদের একটি অডিও। যাতে শোনা যাচ্ছে ওই জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার আবদুল রউফের কণ্ঠ।
এই অডিওটিতে মূলত ওই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের মহিলা শাখা- 'জামাত আল মুমিনাত' এর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে এবং পাকিস্তান জুড়ে তাদের আদর্শগত প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
'ঈমান, নমাজ, জিহাদ ও পর্দা'
ওই অডিওটিতে রউফ দাবি করেছেন, "করাচি থেকে বাহাওয়ালপুর, এবং বাহাওয়ালপুর থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত - সারা দেশ জুড়ে 'জামাত-আল-মুমিনাত' সক্রিয় রয়েছে। মাসুদ আজহারের নির্দেশে ম হিলাদের চারটি বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে - ঈমান, নমাজ, জিহাদ এবং পর্দা।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, "কর্মসংস্থানের নামে মহিলাদের বিপথগামী করা হচ্ছে," এবং একই সঙ্গে তিনি মহিলাদের টেলিভিশন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
এই বার্তা তরুণদের উদ্দেশ্যেও। তাদের বিদেশে চাকরির সন্ধানে যাওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মহিলা শাখাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচার চালানো যায় এবং একই সঙ্গে মহিলাদের মধ্যে সংগঠনটির সদস্য সংগ্রহের ভিত্তি প্রসারিত করা যায়।
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা
এই অডিওটি প্রকাশের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি পহেলগাঁও হামলার বার্ষিকীর ঠিক আগে সামনে এল। গত বছরের এই হামলা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি পরিচালিত এই হামলায় জম্মু ও কাশ্মীরের সাধারণ নাগরিক এবং নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সমগ্র অঞ্চল জুড়ে সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়।
এই হামলার পরবর্তী সময়ে, ভারত 'অপারেশন সিঁদুর' নামে অভিযান শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল এই হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি ঘাঁটিগুলোকে নির্মূল করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হানা , গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের আটক এবং অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পথগুলোতে কঠোর নজরদারি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অভিযানের ফলে বেশ কয়েকটি জঙ্গি মডিউল বা গোপন আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয় এবং সীমান্তের ওপার থেকে নির্দেশদাতা বা 'হ্যান্ডলার'-দের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন একাধিক সন্দেহভাজনকে হয় নিকেশ করা হয়, অথবা গ্রেপ্তার করা হয়।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করে যে, গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর ঠিক আগে এ ধরনের প্রচার ফের সামনে আসাটা মূলত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নিজেদের অস্তিত্ব বা প্রাসঙ্গিকতা জানান দেওয়ার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ। হামলার বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত অনলাইন ও অফলাইন উগ্রবাদী প্রচার ও সদস্য সংগ্রহের প্রচেষ্টার ওপরও নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
















