আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'গাজা বোর্ড অব পিস', এই বোর্ডে ভারত-সহ আরও চারটি দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রস্তাব বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন গড়ে তুলতে আমেরিকা 'গাজা বোর্ড অব পিস' তৈরিতে উদ্যোগী।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোর এক্স-এ লিখেছেন, 'গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তিই আমেরিকার লক্ষ্য। শান্তি বোর্ডে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি সম্মানিত। এই বোর্ড, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য কার্যকর শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করবে!' আমন্ত্রণপত্রটিও তিনি এক্স-এ পোস্ট করেছেন।
'গাজা বোর্ড অব পিস' বোর্ডের মূল কাজ হবে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, পুনর্গঠন তদারকি এবং অঞ্চলে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা। ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। তাঁর ২০ দফা ‘গাজা পিস প্ল্যান’কে অনুমোদন করেছে রাষ্ট্রতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও।
এই বোর্ডে সদস্যপদ দু'ধরনের, স্থায়ী এবং তিন বছরের মেয়াদি। একজন মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, স্থায়ী সদস্য হতে হলে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য দিতে হবে। আর তিন বছরের মেয়াদি সদস্যপদে কোনও আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই। তবে গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে সদস্যরা। এছাড়াও তৈরি হয়েছে আলাদা একটি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’। এতে রয়েছেন জ্যারেড কুশনার, স্টিভ উইটকফ, টনি ব্লেয়ার, তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের প্রতিনিধি আলি আল-থাওয়াদি। এই বোর্ড একদম বুনিয়াদিস্তরে কাজ, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকরী সমন্বয় করবে। ওই আধিকারিক আরও জানান যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল গাজা পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।
ভারতের সঙ্গে জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস এবং পাকিস্তানকেও রবিবার 'গাজা বোর্ড অব পিস' বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য আমন্ত্রণপত্র দিয়েছে আমেরিকা। এর আগে কানাডা, তুরস্ক, মিশর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং আলবেনিয়াও জানিয়েছিল যে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে মোট ক'টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আশা করা হচ্ছে, এই বোর্ডে বিশ্বনেতারা থাকবেন এবং ওয়াশিংটন সম্ভবত আগামী দিনে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকের সময়, সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবে।
