আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণ একটি ডিনার, কিন্তু তার পরিণতি যে এতটা ভয়াবহ এবং অস্বস্তিকর হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি পুনের বাসিন্দা ঋষিকা দত্ত। শহরের নামী এলাকা এফসি রোডের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে ডিজিটাল যুগের এক অন্ধকার দিকের মুখোমুখি হলেন এই তরুণী। কিউআর কোড স্ক্যান করে মেনু দেখার মতো অতি সাধারণ একটি অভ্যাস কীভাবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ঋষিকা ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে টেবিলের ওপর রাখা কিউআর কোডটি স্ক্যান করেন খাবার অর্ডার দেওয়ার জন্য। বর্তমান সময়ে যা অত্যন্ত পরিচিত এবং রুটিনমাফিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই রাতের অভিজ্ঞতা বদলে যায় যখন তাঁর ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ আসা শুরু হয়। মেসেজটি পাঠিয়েছিলেন ওই রেস্তোরাঁয় কর্মরত এক কর্মী। ঋষিকার দাবি, তিনি নিজে থেকে কখনওই ওই ব্যক্তিকে নিজের ফোন নম্বর দেননি। স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ দানা বাঁধে যে, রেস্তোরাঁয় খাবারের অর্ডার দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ডিজিটাল সিস্টেম থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার স্ক্রিনশট শেয়ার হতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ক্ষোভ। রাতদুপুরে রেস্তোরাঁ কর্মীর এমন অযাচিত মেসেজকে নেটিজেনরা 'ভয়ঙ্কর' এবং 'ব্যক্তিগত পরিসরে চরম আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছেন। ঋষিকার এই অভিজ্ঞতা অনেক মহিলার মনেই নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা যখন বিভিন্ন ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় গিয়ে লয়্যালটি প্রোগ্রাম বা ডিজিটাল পেমেন্টের জন্য নিজেদের নম্বর দিই, তখন সেই তথ্যের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত? কার কাছে থাকছে এই তথ্য দেখার অধিকার?
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠলে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। তারা একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানায় যে, অভিযুক্ত কর্মীকে তৎক্ষণাৎ চিহ্নিত করে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ পুরোপুরি কমেনি। সাধারণ মানুষের মতে, শুধুমাত্র একজনকে বরখাস্ত করাই সমাধান নয়, বরং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য বা 'ডেটা' যাতে কর্মীরা অপব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য কঠোর পরিকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
পুনের এই ঘটনা আসলে আমাদের প্রতিদিনের যাপনের এক বড় দুর্বলতাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। যে সুবিধার খাতিরে আমরা বারবার কিউআর কোড স্ক্যান করছি বা নিজের ফোন নম্বর বিলিয়ে দিচ্ছি, সেই সুবিধাই যে কোনো মুহূর্তে হেনস্তার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। স্রেফ একবেলা বাইরে খেতে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজও যে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, ঋষিকার এই ঘটনা যেন তারই এক অশনি সংকেত। মানুষের মনে এখন একটাই চিন্তা—সুবিধার আড়ালে এই যে তথ্যের আদান-প্রদান, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঠিক কোথায়?
















