আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের Indian Institute of Management Nagpur–এ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে প্রায় ৩০০ জন প্রথম বর্ষের এমবিএ পড়ুয়ার পরীক্ষা বয়কট  ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কড়া সিদ্ধান্ত এবং তার প্রতিবাদে ছাত্রদের নীরব অবস্থান—সব মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারির রাতে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ৭৫ জন ছাত্রছাত্রী সিনিয়রদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অভিযোগ, অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাসের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। আরও বলা হয়েছে, ওই পড়ুয়ারা পরদিন ভোরে হোস্টেলে ফেরেন, যদিও নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০টার মধ্যে হোস্টেলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। দেরি হলে অভিভাবকদেরও জানাতে হয়—এমন বিধিও রয়েছে।

প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, এই নিয়ম ভঙ্গের জেরেই প্রথম বর্ষের ৪০ জন ছাত্রকে মঙ্গলবার নির্ধারিত মিড-টার্ম পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনাকে ‘গুরুতর’ বলেই উল্লেখ করেন এক পদস্থ আধিকারিক। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রায় ৩০০ জন প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রী—যাদের মধ্যে শাস্তিপ্রাপ্তরাও ছিলেন—মঙ্গলবারের পরীক্ষায় না বসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা ক্যাম্পাসে নীরব প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁদের বক্তব্য, শাস্তির মাত্রা ‘অতিরিক্ত কঠোর’ এবং আলোচনার সুযোগ না দিয়েই প্রশাসন একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুধু প্রথম বর্ষই নয়, বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াও প্রতিবাদে যোগ দেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, বিশেষ করে যখন তাঁদের নিজস্ব পরীক্ষা ঘনিয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি যখন তীব্র আকার নেয়, তখন ডিরেক্টর শহরের বাইরে ছিলেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈঠক হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করা হয়। অবশেষে প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় বর্ষের এমবিএ পড়ুয়ারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার তাঁদের এন্ড-টার্ম পরীক্ষায় অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রথম বর্ষের যাঁরা মিড-টার্ম পরীক্ষায় বসেননি, তাঁদের জন্য নতুন করে পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হবে।

এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কড়াকড়ি কতটা হওয়া উচিত, আর কোথায় প্রয়োজন সংলাপ ও সহনশীলতার? ছাত্রদের একাংশের মতে, বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষায় বসতে না দেওয়া ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, নিয়ম সকলের জন্য সমান এবং তা লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নিতেই হয়।

সমস্ত জল্পনার মধ্যেই আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে এই ঘটনা ক্যাম্পাস জীবনে শৃঙ্খলা ও অংশগ্রহণের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।