আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। এদের মধ্যে ১২ জনের মাথার দাম ৪০.৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের 'নকশাল আত্মসমর্পণ পুনর্বাসন নীতি ২০২৫' এবং 'নিয়াদ নেল্লা নার' প্রকল্পের অধীনে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং নয়'জন মহিলা রয়েছেন।

২২ জন মাওবাদীর মধ্যে একজন মহিলা এবং একজন পুরুষের মাথার দাম ধার্য ছিল ৮ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারী আরও একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা ছিলেন যাদের মাথার দাম ৫ লক্ষ টাকা বলে জাননিয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। 

আত্মসমর্পণের পর, নকশালপন্থীদের ৫০,০০০ টাকা সহায়তা, পোশাক এবং অন্যান্য সহায়তা রাজ্য সরকার দিচ্ছে। সুকমার এসপি কিরণ চৌহানের মতে, যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁদের সরকারের পুনর্বাসন নীতির অধীনে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

সুকমা জেলার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বান বলেন, "সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চেয়েই মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেছেন।" এই সাফল্যের নেপথ্যে জেলা পুলিশ, জেলা রিজার্ভ গার্ড, সিআরপিএস বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে মাওবাদ নির্মূল করার সংকল্প নিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড-সহ মাওবাদী অদ্যুষিত নানা এাকায় চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি। এই অভিযানে বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকজন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। এ,সবের মধ্যেই কোনও বলপ্রয়োগ ছাড়া ২২ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। 

এর আগে গত ৮ এপ্রিল বিজাপুরে ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ২৬ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

এই মাসের শুরুতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন যে, ছত্তিশগড়ের মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা প্রতিটি গ্রামকে ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে উন্নয়নের জন্য। রাজ্যে চরমপন্থার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখা গ্রামগুলিকে এই তহবিল দেওয়া হবে।