আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ডিলিমিটেশন বিল রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকের পর এমন প্রশ্ন উঠেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম কি শেষ পর্যন্ত এনডিএ সরকারের প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিলকে সমর্থন করতে রাজি হয়েছে?


এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বিপ্লবী সমাজবাদী পার্টির সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রনের মন্তব্যকে ঘিরে। তাঁর দাবি, ডিএমকে কার্যত বিলটিকে সমর্থন করেছে। তবে ডিএমকের রাজ্যসভার সাংসদ তিরুচি শিবা এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্র এখনও বিলের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করেনি। তাই সমর্থনের প্রশ্নই এখনই ওঠে না।


তিরুচি শিবার বক্তব্য, কেন্দ্রকে প্রথমে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে ডিলিমিটেশন বিল কীভাবে করা হবে এবং তাতে দক্ষিণের রাজ্যগুলির স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কোনওভাবেই কমে যাওয়া চলবে না। একই সঙ্গে তিনি মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার দাবিও জানান এবং বলেন, বর্তমান আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।


সূত্রের খবর, ডিএমকের মূল শর্ত হল—বিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে দেশের প্রতিটি রাজ্যে লোকসভা আসনের সংখ্যা সমান হারে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে মৌখিকভাবে এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন। ডিএমকের দাবি, সেই প্রতিশ্রুতি লিখিতভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত হলে তারা ইতিবাচকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।


এদিকে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার বাদল অধিবেশনে বিলটি পেশ করার ঘোষণা করেনি। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় সমর্থন তারা শেষ পর্যন্ত জোগাড় করতে পারবে।


সংসদের অঙ্কও এই বিতর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান সংশোধনী হিসেবে বিলটি পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ ৩৬০ ভোট প্রয়োজন। বর্তমানে এনডিএ-র কার্যকর শক্তি প্রায় ৩১৯ জন সাংসদ। অর্থাৎ এখনও ৪১ ভোটের ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিএমকের ২২ জন লোকসভা সাংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা সরাসরি সমর্থন করলে বা ভোটাভুটিতে অংশ না নিলেও বিলটি পাসের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।


প্রস্তাবিত সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬-এ লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া মহিলাদের জন্য সংসদে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই কার্যকর করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যেতে পারে। সেই কারণেই ডিএমকে এখনও চূড়ান্ত অবস্থান না নিয়ে কেন্দ্রের লিখিত প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন নজর কেন্দ্র সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।