আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ‘মানসিক অত্যাচারে’ অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ২০ বছরের এক যুবক। পুণের এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্ত্রী-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে। মৃত্যুর আগে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের যন্ত্রণার কথা জানিয়ে গিয়েছেন ওই তরুণ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম মহম্মদ সাদ আসিফ সইয়াদ। পুলিশ জানিয়েছে, নাসিকের মালেগাঁওয়ের বাসিন্দা সাদ বর্তমানে পুণের জাম্বুলওয়াড়িতে থাকতেন। স্ত্রী নিশা খানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। অভিযোগ, নিশা ও তাঁর বাড়ির লোকেরা সাদের ওপর নিয়মিত মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
গত বৃহস্পতিবার বিষ খাওয়ার আগে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন সাদ। সেখানে তিনি নাম ধরে ধরে জানান, কারা তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। ভিডিওটি এক বন্ধুকে পাঠানোর পরেই তিনি ইঁদুর মারার বিষ খান।
পুলিশ ইতিমধ্যেই নিশা-সহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা রুজু করেছে। ঘটনার তদন্তে সাদের মোবাইল ফোনটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
অন্যদিকে, মেয়ের তিনবছর আগের ষড়যন্ত্র ফাঁস৷ এক সকালে ডিউটিতে যাওয়ার আগে মেয়ের হাতের এক গ্লাস মিল্কশেক খেয়েছিলেন বাবা। তার কিছুক্ষণ পরেই অফিসের সামনে মৃত্যু হয় তাঁর। সে দিন যাকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে ফাইল বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ, তিন বছর পর জানা গেল, সেই ঘটনা আর কিছুই নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার ষড়যন্ত্র। নিজের বাবাকে খুনের অভিযোগে খোদ পুলিশ-কন্যা, তাঁর স্বামী ও আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করল মহারাষ্ট্র পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি চন্দ্রপুরের। ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল সকালে কাজে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ৪৫ বছর বয়সি পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত বাল্লাওয়ার। তাঁর মেয়ে আর্য বাল্লাওয়ার নিজেও পুলিশে কর্মরত। অভিযোগ, ওই দিন সকালে বাবাকে নিজের হাতে তৈরি করা মিল্কশেক খেতে দেন আর্য। তা খেয়েই জেলাশাসকের দপ্তরে নিজের ডিউটিতে যান জয়ন্তবাবু। সেখানে পৌঁছনোর পরেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। সে সময় কোনও সন্দেহ না হওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ সৎকার করা হয়েছিল।
কিন্তু রহস্যের জট খুলল ঘটনার তিন বছর পর। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২২ সাল থেকেই আশিস শেডমাকে নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আর্যর। বাবা জয়ন্তবাবু এই বিয়েতে মত দেননি। অভিযোগ, পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে বাবাকে খুনের ছক কষেন মেয়ে। জানা গিয়েছে, বিষ জোগাড় করতে নিজের তুতো ভাই চৈতন্য গেডামকে ৫ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন আর্য। আর সেই বিষই মেশানো হয়েছিল বাবার মিল্কশেকে।
বাবার মৃত্যুর পর আশিসকে বিয়ে করেছিলেন আর্য। কিন্তু সেই সুখের সংসার বেশিদিন টেকেনি। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আশিসের পুলিশের চাকরি চলে যায়। তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ তুঙ্গে ওঠে। শেষমেশ গত সপ্তাহে রাগের মাথায় সটান থানায় হাজির হন স্বামী আশিস। পুলিশের কাছে তিনি স্বীকার করেন, তিন বছর আগে আর্যই তাঁর বাবাকে বিষ খাইয়ে মেরেছিলেন।
এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই পুলিশ আর্য, আশিস, আর্যর ভাই চৈতন্য এবং বিষ সরবরাহকারী- এই চার জনকেই গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। চলছে জেরা। দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।















