আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্কুলে যাওয়ার আগেই অঘটন। আচমকাই বুকে ব্যথা। ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়েছিল সে। তারপরেই সব শেষ! হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নবম শ্রেণির পড়ুয়ার মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকে। পুলিশ জানিয়েছে, দেবানাগিরি জেলার গোগুড্ডু গ্রামের বাসিন্দা ১৪ বছরের ওই পড়ুয়া। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের নাম, মুজাম্মিল। পরিবারের অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েছিল সে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও শেষরক্ষা হয়নি। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, রাজীব গান্ধী রেসিডেন্সিয়াল হাইস্কুলের ছাত্র ছিল সে। সাতসকালে স্কুলে যাওয়ার আগে আচমকাই বুকে ব্যথা শুরু হয় তার। তারপরেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই ১৪ বছরের পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। যদিও এখনও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। যা ঘিরে রীতিমতো হতবাক পরিবার। জানা গেছে, পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিল মুজাম্মিল। অত্যন্ত মেধাবী ও সদ্ব্যবহারের জন্য স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছেও প্রিয় ছিল সে। 

প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসেই ন'বছরের এক ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনাই ঘটেছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ন'বছরের ছাত্রীটির নাম প্রাচী কুমায়াত। রাজস্থানের সিকার জেলার দন্ত শহরের একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। মঙ্গলবার স্কুলে টিফিন পিরিয়ডের ঘণ্টা বাজতেই সহপাঠীদের সঙ্গে বেঞ্চে বসেই খাওয়াদাওয়া শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ব্যাগ থেকে টিফিন বাক্স বের করে বেঞ্চে রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে বিপত্তি। টিফিন বাক্স খোলার পরেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে বেঞ্চের ওপর। 

সহপাঠীরা জানিয়েছে, প্রাচীকে কখনও অসুখে ভুগতে দেখেনি তারা। সেদিন কোনও শারীরিক অসুস্থতাও ছিল না তার। স্কুলে এসে রোজের মতো স্বাভাবিক ছিল। খেলাধুলা করেছে। একের পর এক পিরিয়ডে পড়াশোনা করেছে। জ্ঞান হারানোর আগে শারীরিক অসুস্থতার কোনও লক্ষণ তার শরীরে দেখা যায়নি। 

জানা গেছে, সহপাঠীদের থেকে প্রাচীর জ্ঞান হারানোর খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ছুটে আসেন শিক্ষকরা। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।‌ চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার রক্তচাপ দ্রুত কমে যাচ্ছে। পালস পাওয়া যাচ্ছে না। শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে তার। এই সবগুলোই আসলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের লক্ষণ। 

এদিকে চিকিৎসকদের এমন দাবি মানতে নারাজ ছিলেন প্রাচীর বাবা-মা। সেই হাসপাতাল থেকে প্রাচীকে নিয়ে সিকারের আরও বড় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ পরেই প্রাচীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টেই প্রাচীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। 

প্রাচীর বাবা ও মা জানিয়েছেন, ঘটনার তিনদিন আগে থেকেই সামান্য জ্বরে ভুগছিল সে। আর্দশ বিদ্যা মন্দির স্কুলের প্রিন্সিপাল নন্দ কিশোর তিওয়ারি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের শেষ থেকে চলতি সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত তিনদিন স্কুলে অনুপস্থিত ছিল প্রাচী। সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার স্কুলে এসেছিল।‌ স্কুলে প্রার্থনার সময়েও তাকে চনমনে দেখাচ্ছিল। কোনও অসুস্থতার লক্ষণ শিক্ষক এবং সহপাঠীরা বুঝতে পারেনি। টিফিন খাওয়ার সময়েই হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে সে বেঞ্চে লুটিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই মৃত্যু হয় তার।