আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়েবাড়ির খাবার খেয়েই কেলেঙ্কারি। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে খাবার খেয়েই অসুস্থ নিমন্ত্রিতরা। প্রাক বিবাহের অনুষ্ঠানে খাবারে বিষক্রিয়ার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে শতাধিক নিমন্ত্রিত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের থানেতে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, একটি প্রাক বিবাহের অনুষ্ঠানে মধ্যাহ্নভোজ খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শতাধিক নিমন্ত্রিত। অনেকেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে খদকপাড়া থানার অন্তর্গত কল্যাণ শহরের এক হাউজিং কমপ্লেক্সে। রবিবার সেখানেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিতদের জন্য এলাহি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই খাবার খেয়েই কমপক্ষে ১২৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খাবারে বিষক্রিয়ার অভিযোগ তুলেছেন রোগীরা।
নিমন্ত্রিতরা জানিয়েছেন, মধ্যাহ্নভোজ খাওয়ার পরেই ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা ও মাথা ঘোরানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয় অধিকাংশের। তড়িঘড়ি করে অনেকেই হাসপাতালে ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে যান। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অতুল জেন্দে জানিয়েছেন, ১২৫ জন খাবারে বিষক্রিয়ার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সময়মতো হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। বর্তমানে সকলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাক বিবাহের অনুষ্ঠানে মধ্যাহ্নভোজে রান্নার দায়িত্ব যাঁকে দেওয়া হয়েছিল, ওই যুবক আহমেদাবাদের বাসিন্দা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। বিষক্রিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। হাসপাতালের খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ার জের। প্রাণ হারান এক রোগীর। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আরও ৭০ জন। যাঁদের মধ্যে একাধিক রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল হায়দরাবাদে। ইরাগাড্ডার ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেল্থের খাবারে বিষক্রিয়ার অভিযোগ উঠেছিল। হাসপাতালের খাবার খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মানসিক রোগীরা। বিষক্রিয়ার জেরে এক রোগীর মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আরও ৭০ জন। তার মধ্যে দু'জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁরা ওসমানিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দামোদর রাজ নরসিংহের নির্দেশে হাসপাতালে রোগীদের দেখে তদন্ত শুরু করেন আধিকারিকরা। রোগীরা জানান, খাবার খাওয়ার পরেই সকলের ঘনঘন বমি, পেটে তীব্র যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা যায়। সোমবার একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের পর নতুন করে অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়নি।
খাবার না জলের কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি রোগীদের, নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। রোগীদের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। খাবারের গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পাশাপাশি নিরাপত্তাও শিথিল। চার দশকের পুরনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ ওঠায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
