আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্তের পূর্বাঞ্চলীয় অংশটি ২০২৫ সালে সবচেয়ে ব্যস্ত ছিল এই বছর। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১,১০৪ বার অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা হয়েছে। যা গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ৯৭৭টি অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছিল।
এই সীমান্তে অনুপ্রবেশের ব্যাপকতা অন্যান্য সীমান্তে হওয়া চেষ্টাগুলিকে ম্লান করে দিয়েছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তান ৩২টি অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। মায়ানমার ৯৫টি এবং নেপাল ও ভুটান একত্রে ৫৪টি। অর্থাৎ, বর্তমানে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশ।
অনুপ্রবেশের ঘটনার এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ঢাকার রাজনৈতিক অস্থিরতা। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারে অধীনে সহিংস বিক্ষোভ এবং হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি ভারতজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়। যার ফলে কলকাতা ও শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ হয় এবং বেশ কয়েকটি জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়।
২০২৫ সালে ভারতীয় সংস্থাগুলি অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করায় ২,৫৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৩৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেপ্টেম্বরে ৩৩০ জন এবং নভেম্বরে ৩০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টাও বেশি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২৭টি এবং অক্টোবরে ১২৫টি ঘটনা ঘটে। বছরের প্রথমার্ধ তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৮৯ থেকে ১১০-এর মধ্যে ছিল। এর থেকে বোঝা যায় যে বছরের শেষের দিকের অনুপ্রবেশের ঘটনার বৃদ্ধির জন্য ঢাকার অস্থিরতা এবং অরক্ষিত সীমান্ত এলাকার সুযোগ নিয়ে সংগঠিত চোরাচালান চক্রের বাড়বাড়ন্ত দায়ী।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই ঘটনাপ্রবাহ বিশেষভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, দলগুলি পরিচয়কেন্দ্রিক প্রচারকে আরও জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় কর্মসূচি নদিয়া, মালদা এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো সীমান্ত জেলাগুলির লক্ষ লক্ষ বাসিন্দাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যেখানে নাগরিকত্ব, এসআইআর নথিপত্র এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ স্থানীয় আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
