আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য়ে আশান্তি। তারমধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। ফলে, ভারতের জ্বালানি এবং অর্থনীতিতে ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে। টানা হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে ভারতের তেল, এলপিজি আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষতি হবে রপ্তানির ক্ষেত্রেও।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল বহনকারী আন্তর্জাতিক সব জাহাজ চলাচল করে। ফলে এই প্রণালী বন্ধের জেরে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহ সমস্যার সম্মুখীন হবে।

ভারতের জন্য উদ্বেগের: 

তেলের দাম বৃদ্ধি
ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে করা হয়। ২৬ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রতিদিন এই সমুদ্র পথেই এ দেশে পৌঁছয়। এই পথে ভারতে তেল আসে মূলত, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে।

হরমুজ প্রণালী বেশিদিন বন্ধ থাকলে ভারতে তেল আমদানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে বাধ্য। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ৬৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭২-৭৩ ডলারে পৌঁছনোর  লক্ষণ তীব্র হয়েছে। সোমবারই অপরিশোধিত তেলের দামবাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মহার্ঘ হতে পারে এলপিজি:
ভারতে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের চাহিদা প্রচুর। প্রচুর পরিমানে এলপিজি এ দেশে আমদানি করা হয়ে থাকে। হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতে এলপিজি ঢোকে। এই প্রণালী বহুদিন বন্ধ থাকলে রান্নার জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতেও সমস্যা: 
কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা হয়। 

মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা
তেল বা গ্যাসের দাম দাম বাড়লে দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি কিনতে বেশি খরচের ফলে ডলার বেশি খরচ হতে পারে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়াতে পারে। টলমল অবস্থা হবে শেয়ার বাজারের।

রপ্তানিতে রক্ষচক্ষু:
পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য রপ্তানি করে থাকে ভারত। প্রণালী বন্ধ থাকায় সেসব রপ্তানিও ঘুর পথে পাঠাতে হবে। ফলে খরচ বাড়তে পারে।

কেন্দ্রীয় প্রেটোরেলিয়াম মন্ত্রীর দাবি: 
ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির জেরে রাশিয়া থেকে আর প্রচুর তেল আমদানি করতে পারছে না নয়াদিল্লি। এদিকে মধ্য এশিয়ায় উত্তেজনার জেরেও মহাবিপদের আঁচ। এই অবস্থায় ভারতে কত দিনের তেল মজুত রয়েছে? ৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী লোকসভায় জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও মজুদ তেলে ৭৪ দিন চলে যাবে। অর্থাৎ, ভারতের কাছে ৭৪ দিনের তেল রয়েছে। 

কেন হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ:
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। এই প্রণালী বিশ্বব্যাপী তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির জন্য একটি অত্যাবশ্যক রুট এবং মালাক্কা প্রণালী-সহ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল চোকপয়েন্টগুলির মধ্যে অন্যতম।