আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ  নেতা খামেনেইয়ের। তীব্র সামরিক উত্তেজনার আবহে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেইনেইর মৃত্যুর খবরে রবিবার দেশজুড়ে শোক ও প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর নিহত হওয়ার খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর উপত্যকা, লাদাখ, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, কর্নাটক-সহ শিয়া অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কাশ্মীরে। শ্রীনগর শহর, লাল চক, সাইদা কাদল, বুদগাম, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা-সহ উপত্যকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শোকমিছিল বের হয়। কালো পতাকা, খামেনেইর ছবি এবং ইরানের সমর্থনে ব্যানার হাতে মিছিলে অংশ নেন বহু মানুষ। নওহা পাঠ ও বুক চাপড়ে মাতমে মুখর হয়ে ওঠে শহরের একাধিক এলাকা। এক প্রতিবাদী বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা শহিদ হয়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শোক পালন করছি।” বহু মহিলা ও শিশুর উপস্থিতিও চোখে পড়ে মিছিলে।

যদিও, রবিবারেই কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাতে যদিও প্রতিবাদ, উত্তেজনার পরিস্থিতিতে রেশ আসেনি। তারপরেই গৃহীত হয়েছে সিদ্ধান্ত। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পরিস্থিতি বিচারে কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার কাশ্মীর জুড়ে কর্তৃপক্ষ চলাচল, সমাবেশের উপরেও বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। পরিস্থিতি বিচারে, আগামী দু'দিন স্কুল বন্ধ, সূত্রের খবর তেমনটাই। 

 

কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার শিয়া অধ্যুষিত আলিপুরা গ্রামে তিন দিনের শোক পালিত হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদে বিশেষ প্রার্থনা সভা হয়, দোকানপাট স্বেচ্ছায় বন্ধ রাখা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। গ্রামে খামেনেইর নামে একটি হাসপাতাল রয়েছে; সেখানেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানে থাকা রাজ্যের পড়ুয়া ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনকে সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শোকপালন শান্তিপূর্ণ থাকে।