দুর্গাপুজোর অঞ্জলি হোক, কিংবা মসজিদের ভিতরে নমাজ, কিংবা চার্চের ভিতর যীশুকে স্মরণ। সব ক্ষেত্রেই একটা মিল আছে। ধর্ম ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও প্রার্থনার সময় মানুষের ভঙ্গিতে বেশ কিছু মিল দেখা যায়।
2
9
হাত জোড় করে, মাথা সামান্য নত করে এবং চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করার দৃশ্য প্রায় সর্বত্রই পরিচিত। অনেকেই ছোটবেলা থেকে অভ্যাসবশত এই ভঙ্গিতে প্রার্থনা করেন। কিন্তু চোখ কেন বন্ধ থাকে সেটা জানেন কি?
3
9
প্রার্থনার সময় চোখ বন্ধ করার এই অভ্যাসের পিছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক, আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। বাইরের জগত থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে মনোনিবেশ করার প্রকাশই কি চোখ বন্ধ করা?
4
9
প্রার্থনার সময় চোখ বন্ধ করার অন্যতম প্রধান কারণ হল মনঃসংযোগ বাড়ানো। মানুষের মস্তিষ্ক আশপাশের নড়াচড়া, আলো, রং কিংবা অন্যান্য বিষয়ের দিকে আকৃষ্ট হয়।
5
9
চোখ বন্ধ করলে আশেপাশের সবকিছু মাথার ভিতর থেকে সরে যায়। অনেকের মতে, প্রার্থনা শুধু ঈশ্বরের উদ্দেশে কথা বলা নয়, বরং নিজের ভিতরের কথা শোনা, ভাবা এবং উপলব্ধি করারও একটি মাধ্যম।
6
9
চোখ বন্ধ করা আসলে নিজের প্রতি মনোযোগকে আরও গভীর করতে সাহায্য করতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, বিষয়টিকে অনেকটা ‘সেন্সরি রিডাকশন’ বা ইন্দ্রিয়ের শক্তিকে সাময়িক ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
7
9
তবে বিষয়টি শুধু মনোযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চোখ বন্ধ করা এবং মাথা নত করার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিনয় ও আত্মসমর্পণের প্রতীকী অর্থও। অনেক ধর্মীয় পরম্পরায় প্রার্থনাকে ব্যক্তি ও ঈশ্বরের মধ্যে একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়।
8
9
হিন্দু মন্দিরে মন্ত্র জপ বা দর্শনের সময় অনেক ভক্ত চোখ বন্ধ করেন। ক্রিশ্চানদের প্রার্থনাসভায় শ্রদ্ধা ও মনোযোগ বাড়াতে চোখ বন্ধ করার প্রচলন রয়েছে। আবার মুসলিমদের দোয়ার সময়ও কেউ কেউ অল্প সময়ের জন্য চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করেন।
9
9
স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, চোখ বন্ধ করলে মনোযোগ বাইরের দৃশ্য থেকে সরে গিয়ে ভিতরের চিন্তা ও অনুভূতির দিকে যেতে পারে। ফলে স্মৃতি, উদ্দেশ্য, বিশ্বাস কিংবা আবেগের মতো বিষয়গুলিতে মনোনিবেশ করা সহজ হতে পারে।