আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকার পরিবর্তনের পরেও আগের সরকারের আমলে শুরু হওয়া ‘বাংলার বাড়ি’ এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান শুরু করল রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাঠানোর সূচনা করেন। এই পর্যায়ে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার কাজ শুরু হল।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদান করতে রাজ্য সরকারের মোট ৬,১২২.২৭ কোটি খরচ হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্মাণের লিন্টেল স্তর পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করা প্রতিটি উপভোক্তা ৬০ হাজার টাকা করে আজ পাবেন, যাতে অসমাপ্ত বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সরকার পরিবর্তনের পর বহু উপভোক্তার মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকার প্রকল্পের তথ্য ও উপভোক্তাদের নথি পুনরায় যাচাই করে যোগ্যদের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার পরই দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়া হয়েছে এবং অযোগ্য বা বেআইনি সুবিধাভোগীদের সরকারি অর্থ দেওয়া হবে না।
এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব জড়িয়ে রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্পের নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ পরিবার সম্পূর্ণ ১.২০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা পেলেও, প্রায় ১৮ লক্ষ উপভোক্তা প্রথম কিস্তির পর দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাননি। বর্তমান সরকার উপভোক্তাদের তথ্য, নথি এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি পুনরায় পর্যালোচনা করার পর প্রথম পর্যায়ে ১০ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, যাচাইয়ের সময় একাধিক অনিয়মও সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১২ হাজার অযোগ্য ব্যক্তি আবাস প্রকল্পের অর্থ নিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রায় ১০০০ ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এছাড়া উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৫৭ হাজার ব্যক্তির নাম বর্তমান ভোটার তালিকায় নেই। তথ্য যাচাইয়ের পর এই ধরনের অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সরকারের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং আবাস প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই পুনর্বিবেচনা ও যাচাই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। বাকি উপভোক্তাদের ক্ষেত্রেও নির্মাণের অগ্রগতি ও নথি যাচাই সম্পূর্ণ হলে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করা হবে।















