২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। তবে এই দিনটিকে শুধুমাত্র শোক বা স্মরণের আবহে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা। তাঁদের বিশ্বাস, রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে জানিয়ে গিয়েছেন— ‘কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি, সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি।’ তাই ২২ শ্রাবণ তাঁদের কাছে কবিকে নতুন করে অনুভব করার, তাঁর দর্শনকে উদযাপনের দিন।
এই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই আগামী ৮ আগস্ট (২২ শ্রাবণ) গড়িয়ার মহামায়াতলার জয় হিন্দ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হচ্ছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি’। অনুষ্ঠানটির ভাবনা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন জয় দত্তগুপ্ত এবং ঋতুপর্ণা সিংহরায়।
আয়োজকদের কথায়, রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ কোনও সমাপ্তির গল্প নয়। তাঁর সৃষ্টি আজও সমান প্রাসঙ্গিক, সমান জীবন্ত। ‘আমার যাওয়া তো নয় যাওয়া’— এই দর্শনই আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনায় অনুরণিত হয়। সেই ভাবনাকেই সঙ্গীত, আবৃত্তি ও কথনের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরবে এই অনুষ্ঠান।
সন্ধ্যার আয়োজন জুড়ে থাকবে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা পাঠ, গল্প ও সাহিত্যচর্চা। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বিশিষ্ট শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র, মনোময় ভট্টাচার্য, মৌনীতা চট্টোপাধ্যায়, ড. পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় এবং সৌমি মুখোপাধ্যায়। তাঁদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির নানা দিক নতুন আলোয় ধরা দেবে।
আয়োজকদের আশা, এই অনুষ্ঠান কেবল একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা হয়ে থাকবে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শনকে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠবে।
২২ শ্রাবণের এই বিশেষ আয়োজনে তাই স্মরণ ও শোকের গণ্ডি পেরিয়ে উঠে আসবে এক অন্য রবীন্দ্রনাথ— যিনি তাঁর গান, কবিতা, গল্প ও ভাবনার মধ্য দিয়ে আজও বেঁচে আছেন বাঙালির মননে। সেই চিরন্তন উপস্থিতিকেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে উদযাপন করবে ‘কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি’।















