জন্মহার বাড়াতে এবার বড়সড় আর্থিক প্যাকেজ সিঙ্গাপুরের। প্রতি সন্তানের জন্য ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার অর্থাৎ প্রায় ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা) সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি।
2
10
সিঙ্গাপুরে জন্মহার নেমে এসেছে নজিরবিহীন স্তরে। ২০২৫ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার মাত্র ০.৮৭, অর্থাৎ একজন মহিলার জীবদ্দশায় গড়ে এক সন্তানেরও কম। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণত ২.১ হার প্রয়োজন।
3
10
নতুন প্যাকেজে সন্তানের জন্মের সময় পরিবারকে দেওয়া হবে ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের ‘বেবি গিফট’। অর্থাৎ সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের আর্থিক সহায়তা শুরু।
4
10
শুধু জন্মের সময় টাকা দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়। শিশুর বেড়ে ওঠা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খরচ সামলাতে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হবে।
5
10
সন্তান বড় হওয়ার পরেও আর্থিক সহায়তা চালু থাকবে। ১৭ বছর বয়সে আরও ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার দেওয়া হবে উচ্চশিক্ষার খরচে সাহায্য করার জন্য।
6
10
সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে আরও শিশু পরিচর্যা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহায়তা। প্রি-স্কুলের খরচ কমানোর পাশাপাশি শিশুদের দেখভালের জন্য ভর্তুকিও বাড়ানো হবে।
7
10
সন্তান পালনের জন্য বাবা-মায়ের ছুটির সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ছুটির খরচের আরও বড় অংশ সরকার বহন করবে, যাতে সন্তান নেওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রে বাবা-মাকে পিছিয়ে পড়তে না হয়।
8
10
সন্তান-সহ পরিবারগুলির জন্য সরকারি ভর্তুকিযুক্ত আবাসন পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে বাড়ি, পরিচর্যা ও আর্থিক চাপ—তিন দিকেই সাহায্য করতে চাইছে সরকার।
9
10
এত টাকা দিয়েও কি জন্মহার বাড়বে? এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলেও জন্মহার ক্রমশ কমেছে। তরুণদের অনেকেই জীবনযাত্রার খরচ, আর্থিক নিরাপত্তা ও কাজের চাপের কারণে সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দিচ্ছেন।
10
10
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং স্বীকার করেছেন, শুধু সরকারি সহায়তায় জন্মহার ২.১-এ ফেরানো কঠিন হতে পারে। জন্মহার কমতেই থাকলে নাগরিক জনসংখ্যা সঙ্কুচিত হবে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়বে। তাই জন্মহারের পাশাপাশি পরিকল্পিত অভিবাসনও জনসংখ্যা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে থাকবে।