মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার পতন অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার টাকা ১১ পয়সা কম হয়ে ৯৫.৮৭ টাকায় লেনদেন শুরু করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থ প্রত্যাহারের কারণে ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ আরও বেড়েছে।
2
11
গত তিনটি ট্রেডিং সেশন ধরেই টাকার পতন চলছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত টাকার মূল্য প্রায় ১.৩৬ শতাংশ কমেছে এবং একাধিকবার নতুন রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার একসময় ডলারের বিপরীতে টাকা ৯৫.৯৫৭৫-এর সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। পরে সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও বাজারে চাপ বজায় রয়েছে।
3
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্বলতার পিছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ধারাবাহিকভাবে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তেল বিপণন সংস্থা ও আমদানিকারকদের ডলারের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যদিকে রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির তরফে ডলার বিক্রির পরিমাণ কম থাকায় বাজারে ডলারের ঘাটতি আরও বাড়ছে।
4
11
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০৭ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম বেশি রয়েছে।
5
11
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে টাকার উপর।
6
11
বিশ্ববাজারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজর রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনার উপর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
7
11
অন্যদিকে মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৪.৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ডলারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং অর্থনীতির মুদ্রাগুলির উপর চাপ বেড়েছে। ভারতীয় টাকাও তার ব্যতিক্রম নয়।
8
11
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি টাকার দর আরও কমে ডলার প্রতি ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তবে ভারতের অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
9
11
বিশেষ করে যেসব শিল্প আমদানিনির্ভর, তারা বেশি সমস্যায় পড়বে। বিমান পরিবহণ, এফএমসিজি, গাড়ি শিল্প, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। ফলে কোম্পানিগুলির মুনাফার উপর চাপ তৈরি হবে।
10
11
তবে সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, বিশেষ রাসায়নিক এবং বস্ত্রশিল্পের মতো রপ্তানিমুখী শিল্পগুলি লাভবান হতে পারে। কারণ তারা ডলারে আয় করে, ফলে টাকা দুর্বল হলে সেই আয়ের মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় বেড়ে যায়।
11
11
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহের উপরই নির্ভর করবে টাকার ভবিষ্যৎ দিক। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ একটাই—আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনের খরচ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।