বলিউডে নায়িকা মানেই চটকদার সাজ, গ্ল্যামার আর নায়কের ছায়া -এই বাঁধাধরা ধারণাটাকে ভেঙে দিয়েছিলেন যে অভিনেত্রী, তাঁর নাম বিদ্যা বালন। দুর্দান্ত অভিনয়, অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অপরিসীম ক্ষমতা আর নিজের মতে কেরিয়ার চালানোর সাহস, সব নিয়েই আজও তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। ১ জানুয়ারি ৪৭-এ পা রাখলেন এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী তারকা-অভিনেত্রী।
2
8
‘পরিণীতা’, ‘লগে রহো মুন্নাভাই’, ‘গুরু’, ‘পা’, ‘কাহানি’ একটার পর একটা ছবিতে অভিনয়ের দাপট দেখিয়ে দর্শককে বিদ্যা বিশ্বাস করিয়েছিলেন, শক্তিশালী নারী-চরিত্রেরও নিজস্ব বাজার তৈরি করা যায়। অনেকেই তাঁকে ভেবেছিলেন বাঙালি, বিশেষ করে ‘পরিণীতা’ ও ‘কাহানি’ ছবিতে এক বাঙালি নারীর চরিত্রে দুরন্ত অভিনয়ের পর। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, বিদ্যা আসলে তামিল ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে।
3
8
১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি কেরলের পালাক্কাড় জেলায় জন্ম। মা সরস্বতী বালন গৃহবধূ, বাবা পি.আর. বালন একজন পেশাদার কর্পোরেট। বড় বোন প্রিয়া বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত।
4
8
মুম্বইয়ের চেম্বুরের সেন্ট অ্যান্টনি স্কুলে পড়াশোনা করার সময়ই অভিনয়ে বিদ্যা। একতা কাপুরের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘হাম পাঁচ’-এ তাঁর অভিনয় শুরু। পরে ২০০৩ সালে তাঁর প্রথমবার বড়পর্দায় পা রাখা বাংলা ছবি ‘ভালো থেকো’র মাধ্যমে।
5
8
২০০৫ সালে প্রদীপ সরকার পরিচালিত ‘পরিণীতা’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে তাঁর পথচলা শুরু। তারপর একের পর এক বড় নির্মাতার সঙ্গে কাজ-রাজকুমার হিরানির ‘লগে রহো মুন্নাভাই’, বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘একলব্য’, সাজিদ খানের ‘হে বেবি’, প্রিয়দর্শনের ‘ভুল ভুলাইয়া’।
6
8
তবে বিদ্যার কেরিয়ারের আসল মোড় ঘুরে যায় ২০১১ সালে। মিলন লুথরিয়া পরিচালিত ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ তাঁকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি। বিদ্যা প্রমাণ করেন, নারী-কেন্দ্রিক ছবিও ভাল সংখ্যক দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানতে পারে।
7
8
২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে চার হাত এক করেন তিনি। অভিনেতা আদিত্য ও কুনাল রায় কাপুরের ভাই সিদ্ধার্থ।
8
8
আজও বিদ্যা বালন বলিউডে এক শক্তিশালী নারীর প্রতীক, যিনি দেখিয়ে দিয়েছেন গ্ল্যামারের চেয়েও বড় হয় প্রতিভা। আর জনপ্রিয়তা তৈরি হয় দুরন্ত অভিনয়ের গুণেই।