EXCLUSIVE: গ্যাসের আকাল! বন্ধের মুখে কলকাতার বেশ কিছু ক্যাফে, আজকাল ডট ইনকে কী জানালেন মালিকেরা?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৩ মার্চ ২০২৬ ১৪ : ২৭
শেয়ার করুন
1
14
চারিদিকে গ্যাসের আকাল! বাড়ির গ্যাস বুক করলেও পাওয়া যাচ্ছে না৷ আবার ব্যবসায়িক গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
2
14
ব্যবসার প্রয়োজনে যাঁরা গ্যাস ব্যবহার করেন তাঁদের সরবরাহকারী ব্যক্তিরা কেউ ফোন ধরছেন না আবার কেউ জানাচ্ছেন আপাতত গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার কোনও আশা নেই৷
3
14
এই পরিস্থিতিতে কী অবস্থা শহরের ক্যাফেগুলির, আজকাল ডট ইন-কে কী জানালেন ক্যাফের মালিকেরা?
4
14
২৫ মেন স্ট্রিট ক্যাফের কর্ণধার পিনাকী দে-এর মতে, "আমাদের বেশ কিছু খাবার বিদ্যুতের সাহায্য নিয়েই তৈরি হয়৷ গ্রিলড, স্যান্ডউইচ, পিজ্জা এসমস্ত বানানো হয় ইলেকট্রিকের সাহায্যে৷ কিন্তু আমাদের কর্মচারীরা আবাসিক। তাই তাদের খাবার তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে৷
5
14
পিনাকী দে আরও বলেন, "এখনও পর্যন্ত যেটুকু গ্যাস আছে, সেটা দিয়ে আরও দুই সপ্তাহ চলবে। তার পরেও গ্যাসের সমস্যা না মিটলে তখন কর্মচারীদের খাবার তো করতেই হবে সেক্ষেত্রে ক্যাফেতে যে সমস্ত খাবার গ্যাসে বানানো হয় যেমন রাইসের যাবতীয় আইটেম, পাস্তা এগুলো বন্ধ করতে হবে৷ ফ্রাই আইটেম আর চা কফি এই থাকবে৷ "
6
14
বিন স্টপ ক্যাফের কর্ণধার অয়ন বণিক বলেন, বিগত ৪ বছর ধরে ক্যাফে চালাই৷ প্রতি সপ্তাহে ২ টো সিলিন্ডার লাগে৷ আমাদের তিনটে ব্রাঞ্চ আছে৷ ফ্রায়েড আইটেম সব ফ্রায়ারে করা হয়, সেগুলো চলছে। কিন্তু গ্যাসের সমস্যার কারণে সিজলার, দু একটা প্ল্যাটার বন্ধ রাখতে হয়েছে।
7
14
অয়ন বণিকের সংযোজন, "পাস্তা আগে গ্যাসে বানানো হত, এখন ইনডাকশনে বানানো হচ্ছে৷ সিজলার আমাদের সবথেকে বেশি বিক্রি হত৷ কিন্তু সেটা বন্ধ হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি তো হচ্ছে৷"
8
14
বিন স্টপ ক্যাফের কর্ণধারের মতে, প্রধান সমস্যা হচ্ছে কর্মচারীদের দুপুর আর রাতের খাবার দেওয়ার সময়৷ আপাতত দুবারে ইনডাকশনে রান্না হচ্ছে৷" যদিও অয়ন আশাবাদী যে ভারত সরকার শীঘ্র এই সমস্যার সমাধান করবেন।
9
14
রবি নারায়ণ পান্ডা বলেন, "আমাদের দুই তিনদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে৷ গ্যাস না থাকায় ফ্রাই আইটেম চালু আছে কিন্তু চিকেন কষা, মাটন কষা, যাবতীয় গ্রেভি আইটেম বন্ধ রাখতে হয়েছে৷"
10
14
অনলাইনে ডেলিভারি বন্ধ করা হয়েছে৷ এখনও পর্যন্ত খাবারের দাম বাড়েনি, "কর্মাশিয়াল গ্যাস ছেড়ে হঠাৎ করে তো সব ইলেকট্রিকে রান্না করা সম্ভব না", জানান রবি নারায়ণ
11
14
আবার বৈঠকের কর্ণধার স্বরলিপি চ্যাটার্জি বলেন, "আমার কোনও সমস্যা হচ্ছে না কারণ শুরু থেকেই আমার ক্যাফেতে রান্নার ক্ষেত্রে বৈদুতিক যন্ত্রের ব্যবহার করা হত৷ অনেক সময় গ্যাস বার্স্ট করার খবর আসে, আমার ভীষণ ভয় লাগত তাই আমি শুরু থেকেই ইলেকট্রিকের ব্যবহার করি৷"
12
14
স্বরলিপির সংযোজন, "গ্যাসের কানেকশন কখনও নিই নি৷ কেক, পিজ্জা সবই হয়৷ ইনডাকশনে পাস্তা হয়। এছাড়া গ্রিলার ফ্রায়ার চলে৷ ১৩ বছর এভাবেই চলছে৷ যদিও ইলেকট্রিক না থাকলে তখন সমস্যায় পড়তে হয়৷ কিন্তু এখন আমার খারাপ লাগছে গ্যাসের সমস্যার জন্য অনেক দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।"
13
14
ক্যাফে ১৪ এর কর্ণধার তিন্নি রেজা বলেন, "একটা গ্যাস ১৯ কেজি, এটা আমার ক্যাফেতে দশ-বারো দিন চলে। একটা গ্যাস শেষ হয়েছে দু'দিন আগে কিন্তু এখন যিনি সাপ্লাই করেন তাঁকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরছেন না। তাই আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে নতুন গ্যাস না পেলে আমাকে পুরো বেকিং বন্ধ রাখতে হবে৷ সেক্ষেত্রে ব্রেড, কেক, পেস্ট্রি কিছুই করতে পারব না৷"
14
14
ক্যাফে ১৪ এর কর্ণধারের মতে, "শুধু ইনডাকশনে ফ্রাই করা হবে৷ এছাড়া কফি মেশিন আর মাইক্রোওয়েভে যেটুকু যা হয়৷ কিন্তু এটা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি। কারণ ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হচ্ছে একটা ক্যাফের পিক টাইম৷"