ইরান ও আমেরিকার সংঘাত থামতেই খুলে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী। এর জেরে বিশ্ব বাজারে তেলের দামে বড় রদবদল। ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল আমদানিকারী দেশ। এই ঘটনায় একদিকে স্বস্তি বাড়লেও, সাধারণ মানুষের পক্ষে কতটা স্বস্তির হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
2
9
হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ার সবথেকে বড় প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। জানা গিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৩-১৪ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের সময় তেলের দাম যে ভাবে চড়চড় করে বাড়ছিল, এখন তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
3
9
তেলের জোগান স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারও চনমনে। যুদ্ধের জেরে এই জলপথ কার্যত বন্ধ ছিল। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। হু হু করে বাড়ছিল দাম।
4
9
ভারত এই সঙ্কটে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছিল, কারণ বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করে। আর ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের একটা বড় অংশ এই পথ দিয়েই আনিয়ে থাকে।
5
9
হরমুজ বন্ধ থাকায় ভারতে পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রকে জ্বালানির কর পর্যন্ত কমাতে হয়। এখন এই পথ খুলে যাওয়ায় ভারত অন্তত নিশ্চিত যে তেলের জোগান থমকে যাবে না।
6
9
বিশ্ব বাজারে দাম কমলেও ভারতের সাধারণ মানুষ এখনই পাম্পে সস্তায় তেল পাবেন না। কারণ, তেল সংস্থাগুলি আগে থেকে চড়া দামে তেল কিনে রাখায় খুচরো বাজারে দাম কমতে সময় লাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
7
9
তেলের দাম কমার প্রভাব অবশ্য কেবল পেট্রোল-ডিজেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে পণ্য পরিবহণ খরচ কমবে।
8
9
তবে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার জায়গা নেই। ‘অ্যাক্সিওস’ জানাচ্ছে, বিমা এবং জাহাজ চলাচলের খরচ এখনও অনেকটা বেশি। সুতরাং, তেলের দাম একদম তলানিতে নামার সম্ভাবনা কম।
9
9
আসলে আগামী দিনে ভারতে তেলের দাম কেমন থাকবে, তা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে- শান্তি কতদিন বজায় থাকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কতটা মসৃণ হয় এবং বিশ্ব বাজারে তেলের জোগান ঠিকঠাক থাকে কি না। বড় বিপদ কাটিয়ে উঠলেও কতদূর তার প্রভাব থাকবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।