দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে ওইটা টিপলো কে? নতুন এই ট্রেন্ড ঝড় তুলেছে নেটপাড়ায়
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৬ মে ২০২৬ ১৬ : ২৬
শেয়ার করুন
1
10
আজকের এই চূড়ান্ত ব্যস্ততার যুগে বন্ধুত্বের ব্যাকরণটা অনেকটাই বদলে গেছে। "চল, খুব শিগগিরই একদিন দেখা করছি"— এই টেক্সট মেসেজগুলো এখন আমাদের চ্যাটবক্সে বড্ড বেশি জমা হয়। একটা ছুটির দিনে সবাই মিলে একটু আড্ডা দেওয়ার জন্য অন্তত দু-তিন সপ্তাহ আগে থেকে ক্যালেন্ডার মিলিয়ে প্ল্যান করতে হয়। সবাই ব্যস্ত, সবার জীবনেই সময়ের প্রচণ্ড টানাটানি। কিন্তু এই চরম ব্যস্ততা আর নিয়মের বেড়াজালের মাঝেও এমন একজন মানুষের উপস্থিতি বড্ড প্রয়োজন, যার সাথে দেখা করার জন্য কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পূর্বপরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না।
2
10
আজকের ইন্টারনেট দুনিয়া এই বিশেষ ধরনের বন্ধুদের একটা চমৎকার নাম দিয়েছে— 'ডোরবেল ফ্রেন্ড' (Doorbell Friend)। এরা হল সেই সব বন্ধু, যারা কোনও আগাম বার্তা না দিয়েই হুট করে আপনার বাড়ির দরজায় এসে হাজির হয়ে বেল টিপতে পারে এবং যেকোনও সময়েই তাদের জন্য আপনার ঘরের দরজা খোলা থাকে। সেটা যদি রাত ২টোও হয়, তাহলেও কোনও আপত্তি থাকে না।
3
10
অবশ্য ধারণাটা একেবারেই নতুন কিছু নয়। আমাদের বাবা-মায়েদের মুখে আমরা প্রায়ই শুনি যে, তাঁদের সময়ে বন্ধুরা কীভাবে হুটহাট বাড়ি চলে আসত। ডিজিটাল যুগ বা এই কর্পোরেট ইঁদুরদৌড় শুরু হওয়ার আগে এটাই ছিল আড্ডার আসল নিয়ম। কিন্তু বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের হাত ধরে এই চেনা অনুভূতিটাই নতুন নামে ফিরে এসেছে।
4
10
লেখক এবং বন্ধুত্ব বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ম্যাট রিটার এই 'ডোরবেল ফ্রেন্ড' শব্দটিকে জনপ্রিয় করেছেন। তাঁর মতে, এরা হল এমন কিছু মানুষ "যারা কোনও দ্বিধা ছাড়াই আপনার একঘেয়ে জীবনে মিষ্টি একটা সাময়িক বিরতি এনে দিতে পারে।" আজকের দিনে আমরা প্রাপ্তবয়স্করা নিজেদের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত সময় আর স্পেসকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে, না বলে কারও বাড়ি চলে যাওয়াটাকে অনেকেই অভদ্রতা বা অন্যের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করি। আমরা এখন ফোন করার আগেও টেক্সট করি, দেখা করার কথা বলতেও সংকোচ বোধ করি।
5
10
কিন্তু 'ডোরবেল ফ্রেন্ড' হল সেই মানুষগুলো, যাদের বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা একবার ফোন করে বলি, "গেটের সামনে আছি, নিচে আয়।" এদের সাথে দামি রেস্তোরাঁয় ডিনার করার প্ল্যান হয় না, বরং হঠাৎ করে চা খাওয়া বা মাঝরাতে আইসক্রিম কিনতে যাওয়ার মতো ছোটখাটো মুহূর্তগুলোই জমে ওঠে।
6
10
এদের সাথে কাটানো ২০ মিনিটের একটা সাধারণ হাঁটাও কোয়ালিটি টাইম হয়ে ওঠে। এখানে কোনও লৌকিকতা বা লোকদেখানো ব্যাপার থাকে না, আর সেই কারণেই এই বন্ধুত্বগুলো এত সহজ ও সাবলীল হয়। আজকের দিনে এই ধরনের বন্ধুত্ব সত্যিই খুব বিরল। কারণ, গভীর সম্পর্ক কখনো বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৈরি হয় না; তা তৈরি হয় রান্নাঘরে বসে গল্প করতে করতে ম্যাগি খাওয়ার মতো ছোট ছোট, সাধারণ মুহূর্তগুলোর মধ্য দিয়ে।
7
10
কোনও বাড়তি চাপ নেই, কোনো লৌকিকতার বালাই নেই— অথচ সংযোগটা ভীষণ গভীর। ম্যাট রিটারের কথায়, "বন্ধুর জীবনে কোনো বিশেষ উপলক্ষ তৈরি করে দেখা করার চেয়ে, সে বর্তমানে যা করছে তার মধ্যেই নিজেকে শামিল করে নেওয়াটা অনেক বেশি সহজ। আর যেহেতু এটা সহজ, তাই এটা প্রায়শই ঘটতে পারে।" অনলাইন দুনিয়ায় আমরা এখন এতটাই সহজলভ্য হয়ে গেছি যে, সশরীরে কারও সামনে গিয়ে দাঁড়ানোটা এখন এক অদ্ভুত আন্তরিকতার অনুভূতি দেয়। তবে হ্যাঁ, সবার জীবনেই যে এমন একজন বন্ধু থাকবে, তা কিন্তু নয়।
8
10
এর পেছনে ভৌগোলিক দূরত্বের একটা বড় ভূমিকা থাকে। কাছাকাছি থাকলে তবেই এমন 'ডোরবেল ফ্রেন্ডশিপ' গড়ে তোলা সহজ হয়। তার মানে এই নয় যে, দূরত্বের বন্ধুরা ভালো বন্ধু নয়। বছরের পর বছর দেখা না হলেও ফোনের ওপারে থাকা বন্ধুটি আপনার কঠিনতম সময়ে সবার আগে পাশে এসে দাঁড়াতে পারে।
9
10
আজকের এই 'ফ্রেন্ডফ্লেশন' বা বন্ধুত্বের আকালের যুগে, সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা ভুলে যার সামনে একদম নিজের মতো থাকা যায়, তেমন একজন মানুষ পাশে থাকাটা এক পরম বিলাসিতা।
10
10
এই লেখাটি পড়তে পড়তে যদি আপনারও এমন কোনও বন্ধুর কথা মনে পড়ে থাকে, তবে তাকে এখনই লেখাটি শেয়ার করুন। অথবা তার চেয়েও ভালো হয়, যদি কোনও প্ল্যান না করেই আজই তার বাড়ির কলিং বেলটা বাজিয়ে দিয়ে বলতে পারেন— "নিচে আয়, দাঁড়িয়ে আছি!"