শুক্রবারের বাজারে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাল দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। দিনভর লেনদেনে শেয়ারটির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১,০৬৭, যা প্রায় ১.৭৫ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি নির্দেশ করে। একইসঙ্গে পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক শেয়ারগুলিতেও দেখা যায় উল্লেখযোগ্য উত্থান, যা সামগ্রিক বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
2
8
বাজারের প্রধান সূচকগুলিও এদিন সবুজ সঙ্কেত দেয়। সেনসেক্স ৬৫০ পয়েন্টের বেশি বা প্রায় ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৭৪,৮৬৩-এর কাছাকাছি পৌঁছায়। অন্যদিকে, নিফটি ফিফটি ২০০ পয়েন্টের বেশি লাফিয়ে ২৩,২০০-এর উপরে লেনদেন করতে থাকে।
3
8
এসবিআই শেয়ারের এই উত্থানের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শাখার সম্ভাব্য আইপিও। এসবিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কাছে আইপিও-র খসড়া নথি জমা দিয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ে এবং শেয়ার দামে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
4
8
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই আইপিও সম্পূর্ণরূপে ‘অফার ফর সেল’ হিসেবে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ, নতুন করে কোনও শেয়ার ইস্যু করা হবে না। এর ফলে সংস্থার হাতে নতুন মূলধন আসবে না, কিন্তু প্রোমোটারদের শেয়ারের মূল্য উন্মোচিত হবে।
5
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকাভুক্তি এসবিআই-র জন্য একটি বড় ‘ভ্যালু আনলকিং’ সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ, তার মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবসা ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড়। এসবিআই মিউচুয়াল ফান্ড বর্তমানে ভারতের শীর্ষ অ্যাসেট ম্যানেজার, যার পরিচালিত সম্পদের পরিমাণ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২.৬ লক্ষ কোটি ছাড়িয়েছে।
6
8
এই বিপুল আকার ও স্থিতিশীল আয়ের উৎসের কারণে এসবিআই মিউচুয়াল ফান্ডের আলাদা তালিকাভুক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে। পাশাপাশি, মূল সংস্থা এসবিআই-এর মূল্যায়নও এর মাধ্যমে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
7
8
পিএসইউ ব্যাঙ্কগুলির সামগ্রিক র্যাতলিও এই ইতিবাচকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতি, কমে আসা এনপিএ এবং শক্তিশালী ঋণ বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। তার ওপর এসবিআই -এর মতো বড় সংস্থার আইপিও পরিকল্পনা পুরো সেক্টরকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
8
8
সব মিলিয়ে, আইপিও -র খবরকে কেন্দ্র করে এসবিআই এবং পিএসইউ ব্যাঙ্ক শেয়ারগুলিতে যে গতি দেখা যাচ্ছে, তা বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। এখন নজর থাকবে সেবির অনুমোদন এবং আইপিও -র চূড়ান্ত সময়সূচির দিকে, যা আগামী দিনে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।