আর লাগবে না যন্ত্র, শোবার আগে মুখে দিলেই নাকডাকা বন্ধ
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১ : ৩৪
শেয়ার করুন
1
8
নাক–মুখে মাস্ক বা যন্ত্র নয়, ঘুমোবার আগে শুধু একটি ট্যাবলেট- এই ধারণাই এতদিন অবাস্তব বলে মনে করা হত। কিন্তু অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসায় সেই অসম্ভবই এবার বাস্তবের কাছাকাছি চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন মুখে খাওয়ার ওষুধ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে, যা স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2
8
কেমব্রিজভিত্তিক বায়োটেক সংস্থা অ্যাপনিমেড (Apnimed) এই ওষুধটি তৈরি করেছে। এটি আসলে আগে থেকেই পরিচিত দুটি ওষুধের সমন্বয়, যা একসঙ্গে কাজ করে ঘুমের সময় গলার উপরের অংশের পেশিগুলিকে সক্রিয় রাখে। ফলে শ্বাসনালি ভেঙে পড়ে না এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে। বর্তমান চিকিৎসার মতো সিপিএপি (CPAP) মেশিন, মুখোশ বা যান্ত্রিক কোনও উপকরণের প্রয়োজন নেই, ঘুমোতে যাওয়ার আগে শুধু একটি ট্যাবলেট খেলেই হবে।
3
8
সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা FDA-র কাছে অনুমোদনের আবেদন করবে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে ২০২৭ সালের শুরুতেই এই ওষুধ বাজারে আসতে পারে। অনুমোদন পেলে এটিই হবে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য প্রথম নির্দিষ্ট মুখে খাওয়ার ওষুধ।
4
8
অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি রোগ, যেখানে ঘুমের সময় গলার পেশি অতিরিক্ত শিথিল হয়ে পড়ে। ফলে শ্বাসনালি বারবার বন্ধ হয়ে যায় এবং শ্বাস নিতে সাময়িক বিরতি ঘটে। এতে শুধু ঘুম ভাঙে না, দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এমনকি অ্যালঝাইমার বা পারকিনসনের মতো স্নায়ুরোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
5
8
গত বছর শেষ হওয়া তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই নতুন ওষুধে উল্লেখযোগ্য ফল মিলেছে। যাঁরা ওষুধটি নিয়েছিলেন, তাঁদের স্লিপ অ্যাপনিয়ার তীব্রতা গড়ে ৪৭ শতাংশ কমেছে, যেখানে প্লাসিবো নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা ঘুম আসতে একটু দেরি হওয়া। গুরুতর কোনও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ধরা পড়েনি।
6
8
ঘুম–গবেষণার জগতে এই ফলাফলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত কয়েক দশকে স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য ৪০টিরও বেশি পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যর্থ হয়েছে। হার্ভার্ডের ঘুম–বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্ড্রু ওয়েলম্যান বলেন, “স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য একটি ট্যাবলেট সবসময়ই ছিল ‘হোলি গ্রেইল’। এতদিন সেটা কাজ করেনি, এবার হয়তো করছে।”
7
8
বর্তমানে সিপিএপি মেশিনই এই রোগের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। তবে বাস্তবে বহু রোগী মাস্ক পরতে পারেন না বা কিছুদিনের মধ্যেই ব্যবহার বন্ধ করে দেন। ফলে স্লিপ অ্যাপনিয়া আজও ব্যাপকভাবে অচিহ্নিত ও চিকিৎসা না হয়েই থেকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৮ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগলেও নিয়মিত চিকিৎসা পান অনেক কম। ভারতে এই সংখ্যাটা আরও ভয়াবহ, প্রায় ১০.৪ কোটি মানুষ অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
8
8
ঘুম মস্তিষ্ক ও শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য মৌলিক প্রয়োজন। প্রতিরাতে যদি ঘুম ভেঙে ভেঙে যায়, তার প্রভাব জমতে জমতে ভয়াবহ আকার নেয়। এতদিন যে রোগকে ওষুধে ধরা যায় না বলে মনে করা হত, তার জন্য একটি সাধারণ ট্যাবলেটের সম্ভাবনা সত্যিই এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা—নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের।