অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’-এর প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। স্থলভাগের আরও গভীরে প্রবেশ করে ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টির অবশিষ্ট অংশ।
2
14
এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হল নতুন একটি নিম্নচাপ। দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত শক্তি বাড়িয়ে ইতিমধ্যেই নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
3
14
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। ফলে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
4
14
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর অবস্থানরত ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এরপর সেটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
5
14
আগামী ৭২ ঘণ্টায় আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে নিম্নচাপটি আরও শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। কলকাতার মৌসম ভবনের এক প্রবীণ বিজ্ঞানী এইচ আর বিশ্বাস জানিয়েছেন, নতুন করে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
6
14
তবে এই নিম্নচাপ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পর এটিই দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আপাতত নতুন কোনও ঘূর্ণিঝড় সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
7
14
আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘণ্টায় ৩১ কিলোমিটারের কম গতিবেগ থাকলে তাকে নিম্নচাপ বলা হয়।
8
14
ঘণ্টায় ৩১ থেকে ৪৯ কিলোমিটার গতিবেগ হলে তা গভীর নিম্নচাপের পর্যায়ে পৌঁছয়। ৫০ থেকে ৬১ কিলোমিটার গতিবেগ হলে সেটিকে গভীরতর নিম্নচাপ বলা হয়।
9
14
বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হলে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়। এরপর গতিবেগ বাড়লে তা যথাক্রমে প্রবল, অতি প্রবল এবং অত্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছয়। ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগ হলে তাকে সুপার সাইক্লোন বলা হয়।
10
14
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিতে বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেয় মৌসম ভবন। স্যাটেলাইট, ডপলার ওয়েদার রাডার, সমুদ্রের বয়া এবং উপকূলবর্তী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়।
11
14
পাশাপাশি সংখ্যাভিত্তিক আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল এবং একাধিক মডেলের সম্মিলিত বিশ্লেষণ করা হয়। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তুলনায় ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা এবং আছড়ে পড়ার স্থান সংক্রান্ত পূর্বাভাসের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
12
14
সাধারণত এপ্রিল-মে মাসকে প্রাক্-বর্ষার ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসকে বর্ষা-পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম বলা হয়। এই সময়েই বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
13
14
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণ ছত্তিশগড় এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার উপর অবস্থান করছে। আবহাওয়া দপ্তরের অনুমান, উত্তর দিকে এগিয়ে এটি আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
14
14
ফলে একদিকে ‘অর্ণব’-এর প্রভাব কাটার অপেক্ষা, অন্যদিকে আন্দামান সাগরে নতুন নিম্নচাপের শক্তিবৃদ্ধি—দুই পরিস্থিতির উপরই নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।